ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের মধ্যেই শুরু হলো রোজা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখণ্ডে শুরু হয়েছে রোজা। এরমধ্যেও সেখানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। সেইসঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরুজালেম শহরে অবস্থিত পবিত্র আল–আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। সোমবার (১১ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গাজায় পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে চলছে ইসরায়েলের হামলা। স্থানীয় সময় রোববার রাতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় সেখানে অন্তত ৩১ হাজার ১১২ জন নিহত হয়েছেন। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। আহত হয়েছেন ৭২ হাজার ৭৬০ জন।

আল জাজিরা বলছে, রোজা শুরু হলেও সমগ্র গাজা উপত্যকা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং ত্রাণ বিতরণে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে উপত্যকাটিতে অনাহারে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা। তাঁরা কয়েকমাস ধরেই ত্রাণ পাচ্ছেন না। কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ভিক্ষ এড়াতে চাইলে জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।

এরমধ্যেই যতটা সম্ভব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে রোজার প্রস্তুতি নিয়েছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা। সৌদি আরব, কাতার ও আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশের পাশাপাশি রোববার (১০ মার্চ) ফিলিস্তিনেও রমজানের চাঁদ দেখা যায়। ফলে সোমবার (১১ মার্চ) প্রথম রোজা রাখছেন গাজাবাসী। মৃত্যুর পরোয়ানা মাথার ওপর থাকা সত্ত্বেও চাঁদ দেখার পরই রোববার রাতে তারা তারাবি নামাজ পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত ছবি-ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় তারাবি নামাজ চলছে।

পবিত্র রমজান মাসে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে দেয়া হবে জানিয়েছিল ইসরাইল। সেই প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করেই এদিন অনেকেই তারাবি পড়তে আল-আকসায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনমতে, জেরুজালেমের পুরানো শহরের সরু রাস্তার চারপাশে হাজার হাজার ইসরাইলি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখানেই আল আকসা মসজিদ অবস্থিত। এলাকাটি ইহুদিদের কাছেও সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসাবে বিবেচিত। এটাকে তারা ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে ডাকে। ২০২১ সালে গাজা নিয়ন্ত্রক হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত্র হয়েছিল এখান থেকেই। সেই সংঘাত ১১ দিন স্থায়ী হয়েছিল। তবে ওই সংঘাত চলমান যুদ্ধের কাছে বলতে গেলে কিছুই না। কারণ গত ৭ অক্টোবর শুরু হওয়ার পর এবারের সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, রমজান মাস এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন গাজার সর্বত্র ক্ষুধার হাহাকার বিরাজ করছে। রোজার মাসে ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি’ করার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি রোববার জানিয়েছে, অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে ইসরাইলের মারাত্মক আক্রমণের মধ্যে গাজা উপত্যকাজুড়ে ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়েছে। ইউএনআরডব্লিউএ এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজার সর্বত্রই ক্ষুধা বিরাজ করছে। পবিত্র রমজান সোমবার শুরু হলেও উপত্যকাজুড়ে মানবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংস্থাটির ভাষায়, গাজার পরিস্থিতি দুঃখজনক, বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও সেখানে স্থলপথে সাহায্য সরবরাহের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

Check Also

ইরানের হামলায় ইসরায়েলের পাশে থাকবে না যুক্তরাষ্ট্র: হোয়াইট হাউজ

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বলেছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক হামলায় যোগ দেবে না। হোয়াইট হাউজের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *