টাইটানিক আবারও আটলান্টিক মহাসাগরে, পুনর্যাত্রা ২০২২ সালে

টাইটানিক আবারও আটলান্টিক মহাসাগরে, পুনর্যাত্রা ২০২২ সালে

নাজমুস শাকিব নূমেরী :: বিগত শতকের সবচেয়ে বড় জাহাজ আরএমএস টাইটানিক। বহুল আলোচিত সেই জাহাজের অদলে নির্মিত হতে যাচ্ছে আরেকটি জাহাজ, যার নাম হবে টাইটানিক ২।

জাহাজটি তার প্রথম যাত্রাতেই ডুবে গিয়েছিল উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে। টাইটানিকের এই
করুণ পরিণতির কাহিনী উঠে এসছে বহু বই, নাটক, সিনেমা, প্রমাণ্যচিত্র সহ প্রায় সকল ধরনের প্রচার মাধ্যমে। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে টাইটানিক এর গল্প।

আর মাত্র একটি বছর। তারপর শত বছরের পুরনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। জলে নামবে টাইটানিক। না, এবার আর রুপোলি পর্দা নয়, এবার বাস্তব। অস্ট্রেলিয় সংস্থা ব্লু স্টার লাইন এ ব্যাপারে প্রেস বিবৃতি জারি করেছে।

সংস্থার চেয়ারম্যান ক্লাইভ পামার বিবৃতিতে লিখেছেন, ‘‘এ জাহাজ অতিক্রম করবে আদি পথ, যাত্রীর সাদাম্পটন থেকে জাহাজে চড়ে পোঁছবেন নিউ ইয়র্ক। তবে একই সঙ্গে সারা পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে টাইটানিক টু, সমস্ত বন্দরের রহস্য ও কৌতূহল উন্মোচন করতে করতে গন্তব্যে পৌঁছবে।’’

১৯১২ সালের আসল টাইটানিক ও টাইটানিক ২ দেখতে একই রকম হলেও, তাদের মধ্যে বেশ কিছু মিল ও অমিল রয়েছে। প্রথম টাইটানিক তৈরী করেছিল হোয়াইট স্টার লাইন আর বর্তমানে টাইটানিক ২ তৈরী করছে ব্লু স্টার লাইন। প্রথম টাইটানিক তৈরী হয়েছিল ১৯০০ সালের প্রযুক্তি দিয়ে, আর বর্তমানে টাইটানিক ২ তৈরী হচ্ছে আধুনিক সকল প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে।

টাইটানিক ২ এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হল, এই জাহাজে সকল যাত্রীর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফবোট রাখা হবে। লাইফ বোট ছাড়াও একুশ শতকের একটি জাহাজে নিরাপত্তার জন্য যা যা থাকা দরকার, তার সবই থাকছে এতে। স্যাটেলাইট ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ডিজিটাল নেভিগেশন ও আধুনিক রাডারের সাহায্যে সবসময় সংযুক্ত থাকবে টাইটানিক ২।

এছাড়াও ব্লু স্টার লাইন কর্তৃপক্ষের দাবি, আপদ-কালীন সময়ে যাত্রীদের অতিদ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে তারা। টাইটানিক ২ এর দৈর্ঘ্য আসল জাহাজের সমান ৮৮৫ ফুট। প্রথম টাইটানিকের প্রস্থ ১৭৫ ফুট হলেও, কিছু বাড়তি সুবিধা যোগ করার কারণে টাইটানিক ২ এর প্রস্থ একটু বেশি হবে।

৯ তলা বিশিষ্ট টাইটানিক ২ এর উচ্চতা প্রায় ১৭৫ ফুট এবং ওজন ৪০ হাজার টন। আসল টাইটানিকে মত টাইটানিক ২য়েও থাকবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির টিকিট ব্যবস্থা। টাইটানিক ২ জাহাজের ৮৪০ টি কেবিনে পরিবহন করতে পারবে ২ হাজার ৪০০ জন যাত্রী। এবং জাহাজ পরিচালনার জন্য নাবিক ও কর্মী থাকবে মোট ৯০০ জন।

প্রথম টাইটানিক নির্মান করা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের বেলফাস্টে; আর টাইটানিক ২ নির্মান করা হচ্ছে চীনের জিয়াংশু তে। নির্মান শেষ হবার পর টাইটানিক ২ চীন থেকে দুবাই হয়ে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বন্দরে যাবে। এরপর সেই প্রথম টাইটানিকের মত সাউদাম্পটন বন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে শুরু হবে টাইটানিক ২ এর যাত্রা।

সোর্সঃ বিজনেজ ইনসাইডার

Check Also

দক্ষিণবঙ্গের প্রথম ভাসমান সেতু এখন মরণফাঁদ

লিটু দেবনাথ, পটুয়াখালী।। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলাধীন পাখিমারা বাজার সংলগ্নে দক্ষিনবঙ্গের সর্ব প্রথম ভাসমান সেতু এখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *