ফের বির্তকে জড়ালেন সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

ফের বির্তকে জড়ালেন সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

ফের বির্তকে জড়ালেন সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ।। স্টাফ রিপোর্টার ॥ ফের বির্তকে জড়ালেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। সারাদেশের ন্যায় বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা পরিষদের নির্বাচন।

গতকাল বরিশাল জিলা স্কুলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কেন্দ্রে ভোট প্রদান করতে যান, বরিশাল সিটি করর্পোরেশন’র মেয়র সেরনিয়বাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এসময়ে একাধিক ভোটার মেয়র সাদিকের সাথে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

দায়িত্ব পালনকালে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মুনিরুজ্জামান একাধিক ব্যক্তি প্রবেশে মৌখিক বাধা প্রয়োগ করলে মেয়রের রোষানলে পড়েন তিনি।

প্রবেশে বাধা দেয়ায় ক্ষুদ্ধ মেয়র সাদিক আব্দুল¬াহ ইউএনও মুনিরুজ্জামানকে ‘স্টুপিড’ বলে ভর্ৎসনা করেন। যার দৃশ্য মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র নিজস্ব ফেইসবুক পেজে লাইভ চলায় মুহুর্তেই সারাদেশে ভাইরাল হয়ে যায়। এসময়ে মেয়রের সাথে ছিলেন আওয়ামী ঘরানার অন্যান্য প্রার্থীরা।

এদিকে সোমবার সকালে মেয়রের নিজস্ব ফেসবুক পেজে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক ওঠে বরিশালসহ সারাদেশে। একজন মেয়র কীভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্বপালনের জন্য স্টুপিড বলেন, এমন প্রশ্ন উঠছে জনমনে।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি সময়ের বার্তাকে বলেন, ‘যা দেখার আপনারা তো দেখছেন, আমাকে কেন জিজ্ঞাস করছেন? আমি কেবল আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলাম।’

ভোট কেন্দ্র থেকে লাইভ করা যায় কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় প্রিসাইডিং অফিসার কিংবা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।’

সোমবার সকালে ভোটকক্ষে প্রবেশের গেটে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম অনুরোধ করেন দলবল নিয়ে ভোট কক্ষে প্রবেশ না করতে।

অনুরোধের পরেও মেয়র ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বেই বহিরাগত ভাবে বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব মোঃ শাহরিয়ার কবির রিজন কোন বৈধ অনুমতি পত্র ছাড়াই প্রবেশ করলে তাকে বাধা দিতে গিয়েই মেয়রের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পরে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার মুনিরুজ্জামানের সঙ্গে।

এরপর ভোট কক্ষের সামনে পৌঁছালে বরিশাল সদর উপজেলা ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান মেয়র সাদিক আব্দুল¬াহকে দল বেঁধে প্রবেশ না করতে পি¬জ পি¬জ বলে অনুরোধ করেন।

এ সময় মেয়র সাদিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আমি কি ঢুকছি এখানে? আমি কি ঢুকছি? আপনি কে? আমি কি ঢুকছি? তারপরও আপনি কথা বলতেছেন। আমি কি শিশু? স্টুপিডের মতো কথা বলেন।

যেভাবে ভাবটা করেন তাতে বুঝা যায় দল বাইধা ঢুকতেছি। ভোটার হইছে ১৭৪ জন। তাহলে সমস্যা কোথায়! কাউন্সিলর শেখ সাইয়েদ আহম্মেদ মান্না বলেন, এখানে সবাই ভোটার, আপনি চেনেন না। বরিশাল মহানগর আঃলীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর ইউএনওকে বলেন, ‘উনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র।

আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।’ এ সময় ইউএনও পিঠে হাত বুলিয়ে বলেন, ‘চেয়ারম্যান মহোদয় আমি আপনাদের চিনি। আমি এমন কিছু বলিনি।’একপর্যায়ে মেয়র সাদিক ইউএনওকে বলেন, ‘আমি তো ভেতরে ঢুকিনি।

ফাইজলামি করেন আপনারা। আপনে কানে কথা শোনেননি।’ তখন ইউএনও মনিরুজ্জমান মেয়রকে বলেন, ‘আপনাকে কিছু বলিনি স্যার।’পুলিশ-প্রশাসন এগিয়ে, পিছু হটছে রাজনীতি জেলা পরিষদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করব না।’

তবে বরিশালের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, ‘ভোট কক্ষে ফেসবুক লাইভ করার কোনো বিধান নেই।

’এ সময় মেয়র সাদিক আব্দুল¬াহর সঙ্গে বিনা ভোটে সদ্য নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সিটি করর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন,

জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর সদস্য সচিব মো.শাহরিয়ার কবির রিজন সহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।ভোট কেন্দ্রে মেয়রের পূর্বেই প্রবেশ করতে দেখা গেছে মো.শাহরিয়ার কবির রিজন।

মেয়র প্রকাশ্যে ভোটার ছাড়া কেউ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করবে না মূখে বললেও তারই ফেইসবুক লাইভে দেখা যায় ভোটার না হয়েও কোন অনুমতি পত্র ছাড়াই মেয়রের আগে ভোট কেন্দ্রের ভিতর প্রবেশ করতে।

যার কারনে ইউএনও বহিয়া গতদের বের হয়ে যাবার জন্য বলতে গিয়েই মেয়রের সাথে বিতর্কে জড়িয়েছেন বলে উপস্থিত প্রতক্ষ্য দর্শীরা জানান।

এ ব্যাপারে মেয়রের সঙ্গে থাকা বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিনা ভোটে নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আইনজীবী এ কে এম জাহাঙ্গির বলেন, ‘ভোট শুরু হয়েছে সকাল ৯টায়।

মেয়র অন্যান্য ভোটারদের নিয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ভেতরে প্রবেশ করেননি। তখন ইউএনও তাকে প্রবেশ না করার জন্য বারবার বলেন।’ এর বেশি কিছুই হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

বহিরাগত ভাবে মেয়রের সাথে থাকা রিজন নামের এক জনকে ফেইসবুক লাইভের ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে মেয়রের পূর্বেই ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে। আর তাকে বাধা দিতে গিয়েই মেয়রের সাথে বিতর্কে জড়ান ইউএনও।

উল্লেখ, গত বছরের ১৮ আগস্ট রাতে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যানার অপসারণ নিয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমানের সঙ্গে বিরোধে জড়ান মেয়র সাদিক ও তাঁর অনুসারীরা।

এ সময় তার অনুসারীরা ইউএনওর বাসায় ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ নিয়ে এ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় ঘটে। যা এখানো মানুষের মুখে মুখে।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন। এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

Check Also

ফিরে দেখা ২০২২

ফিরে দেখা ২০২২

ফিরে দেখা ২০২২।। স্টাফ রিপোর্টার॥ উত্থান-পতন পেরিয়ে অতীতের খাতায় চিরতরে জম‍া হবে ২০২২ সাল। নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *