বিতর্কিত সাব-রেজিষ্ট্রার ইউসুফের কারিশমায় জমির মালিক অহিদ!

বিতর্কিত সাব-রেজিষ্ট্রার ইউসুফের কারিশমায় জমির মালিক অহিদ!

বিতর্কিত সাব-রেজিষ্ট্রার ইউসুফের কারিশমায় জমির মালিক অহিদ!> এম. লোকমান হোসাঈন ॥ ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। প্রথমে ১৯৯২ সালে ফয়জর আলী মৃধা নামের একজনকে দেখিয়ে জমি ক্রয় করেছেন এস.এম মিজানুর রহমান অহিদ ও আ: রব। বিতর্কিত সাব-রেজিষ্ট্রার ইউসুফের কারিশমায় জমির মালিক অহিদ!

এস.এম মিজানুর রহমান অহিদ

এস.এম মিজানুর রহমান অহিদ হচ্ছেন, নগরীর ১ নং ওয়ার্ড কাউনিয়ার বাসীন্দা মৃত সৈয়দুর রহমানের ছেলে ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ারের ভাই। একই সম্পত্তি প্রায় ২৯ বছর পর সুরোবালা রাণী নামের আরেক জনের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন অহিদ।

২৯ বছর পরের রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলে ২য় গ্রহীতা আ:রবকে বাদ দিয়ে এস.এম মিজানুর রহমান অহিদ ও নগরীর মুসলিম গোরস্থান রোডের ২১ নং ওয়ার্ড বাসীন্দা মৃত মো: আপছার উদ্দিন মোল্লার ছেলে মো: জাহিদ পারভেজ ওরফে জাহাঙ্গীরকে দেখানো হয়েছে।

সদর সাব রেজিষ্ট্রার

বিতর্কিত বরিশাল সদর সাব রেজিষ্ট্রার মো: ইউসুফ আলী মিয়ার যোগসাজে অর্থের বিনিময় ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ড বাঘিয়া জে.এল নং ৩২, মৌজা বাঘিয়া এস.এ ২২৬ নং খতিয়ানের বি.এস. চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত ৩৮১ খতিয়ানের জমাখারিজী বি.এস ১৫২৫ নং খতিয়ান থেকে ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করা হয়েছে।

যারবাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকার ওপরে। প্রকৃত পক্ষে ওই জমির মালিক ওই এলাকার বাসীন্দা আ: মন্নান হাওলাদার। মন্নান হাওলাদারের দাবী স্থানীয় বিএনপির নেতা সাবেক এমপি মজিবুর রহমান সরোয়ারের ভাই মিজানুর রহমান অহিদ প্রভাবশালী ভাইয়ের প্রভাব দেখিয়ে জাল-কাগজপত্র বানিয়ে তার জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

এবিষয় জড়িতের বিচারের দাবী করছেন, ভূক্তভোগী আ: মন্নান ও তার পরিবার। এই বির্তকিত বরিশাল সদর সাব-রেজিষ্ট্রার মো: ইউসুফ আলী মিয়ার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে, দলিল রেজিষ্ট্রি করতে গেলে কাগজপত্র সঠিক থাক বা না থাক অর্থ ছাড়া কোন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন না এই কর্মকর্তা।

সময়ের বার্তা‘র হাতে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই

সময়ের বার্তা‘র হাতে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখায়, সুরোবালা রানী, স্বামী মৃত সন্তোষ সরকার, জাল জন্মসনদপত্র‘র সূত্রে স্থায়ী ঠিকানা ইসলাম পাড়া সড়ক, মুন্সী হাউজ, নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ড বরিশাল। বর্তমান ঠিকানা অপরাজিতা, অক্সফোর্ড মিশন রোড, নগরীর ২১ নং ওয়ার্ড বরিশাল সদর।

এমন তথ্য দিয়ে গত বছর ২৯ মার্চ বরিশাল সাব রেজিষ্টারের মাধ্যমে কাশিপুর বাঘিয়া এলাকায় জমি বিক্রি করেছেন সুরোবালা রানী। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে অনুসন্ধানে নামে সময়ের বার্তা। সময়ের বার্তা’র অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সুরোবালা রাণীর দেওয়া তথ্য মতে ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার ও ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহমেদ মান্নার দেওয়া লিখিত তথ্যমতে দেখা যা সুরোবালা রাণী নামের কোন নারী কখনোই উল্লেখিত ঠিকানায় বসবাস করেন নাই, এই মর্ম্মে ঠিকানা সনাক্তকরন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেছেন কাউন্সিলগণ।

২০২০ সালের ২৩ মার্চ আইনজীবি মো: আজাদ রহমানের মাধ্যমে একটি হিন্দু সম্পত্তি দায়ভাগ প্রাপ্তর সাটির্ফিকেট গ্রহণ করেছেন, সেখানে সুরোবালা রানীকে দেখানো হয়েছে, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন ৩নং দেহেরগতি ইউনিয়নের বাসীন্দা। অথচ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান মো: মশিউর রহমান লিখিত ভাবে সময়ের বার্তাকে জানান, সুরোবালা রাণী দেহেরগতি ইউনিয়নের কোথায়ও কোন দিন স্থায়ী বা অস্থায়ী বসবাস করেন নাই।

এদিকে দলিল করার সময়ে বরিশাল নগরীর ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ড এর সংরক্ষিত কাউন্সিলর জাহানারা বেগমের মাধ্যমে যে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দেখানো হয়েছে, সেখানের ঠিকানাও সঠিক না বলে দাবী করছেন, কাউন্সিলর জাহানারা বেগম। অনুসন্ধানে দেখাগেছে সুরোবালা রানী বরিশাল নগীরর ৫টি ওয়ার্ডের বাসীন্দা সহ একটি ইউনিয়নের বাসীন্দা দেখানো হয়েছে সেগুলো ভূমিদস্যূরা সবই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরী করেছেন।

দায়ভাগ সনাক্তকারী এ্যাড আজাদ রহমানের কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে এড়িয়ে যান এই আইনজীবি। দলিল গ্রহীতা এস.এম মিজানুর রহমান অহিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যার নাম ঠিকানার অস্তিত্ব নেই, এমন ব্যক্তির মাধ্যমে কিভাবে দলিল সম্পদনা করা হয়েছে সে বিষয় জানতে চাইলে, বরিশাল সদর সাব-রেজিষ্ট্রার মো: ইউসুফ আলী মিয়া সময়ের বার্তাকে জানান, কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করার কাজ তার না।

সুরোবালা রানী স্ব-শরীরে রেজিষ্ট্রি অফিসে এই কর্মকর্তার সামনে হাজির হয়ে বক্তব্য দেয়ার পরই তিনি দলিলের কাজ সম্পদনা করা হয়েছে। তবে এর কোন প্রামান দেখাতে পারেননি এই বিতর্কিত কর্মকর্তা। বরিশাল জেলা সাব রেজিষ্ট্রার পথিক কুমার সাহা‘র বক্তব্য নিতে তার কার্যলয় গেলে অফিস কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায়। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি পথিক কুমার সাহা‘।

যুক্ত হোন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করুন। এবং আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

Check Also

ফিরে দেখা ২০২২

ফিরে দেখা ২০২২

ফিরে দেখা ২০২২।। স্টাফ রিপোর্টার॥ উত্থান-পতন পেরিয়ে অতীতের খাতায় চিরতরে জম‍া হবে ২০২২ সাল। নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *