বিধি-নিষেধ ভাঙার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক: শামছুল আযম
বাংলাদেশে নতুন বিধি-নিষেধে লকডাউন জারি করার পর থেকে নিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগে সারাদেশে হাজার হাজার মানুষকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযুক্তদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরিমানা, কারাদণ্ডের মত শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, ডিএমপি অধ্যাদেশের ৬৯, ৭৫, ৭৭ বা ৭৮ ধারা অনুযায়ী অধিকাংশ মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।এই ধারাগুলোতে ‘বিধি-নিষেধের বিপরীতে পণ্য বিক্রি করা’, ‘জনসম্মুখে অশোভন আচরণ’, ‘রাস্তায় পথচারীদের বিরক্ত করা’ এবং ‘শান্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে অসদাচরণ’এর শাস্তি হিসেবে জেল ও জরিমানার উল্লেখ রয়েছে।
আর ডিএমপি অধ্যাদেশের যেসব ধারার অধীনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আভিযোগ আনা হচ্ছে, সেসব ধারার অধীনে সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং দুই থেকে পাঁচশো টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “গ্রেফতারকৃতদের ফৌজদারী দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় অথবা ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী সাজা দেয়া হচ্ছে। “দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি বেআইনিভাবে বা অবহেলাজনিত এমন কোন কাজ করে যার কারণে জীবন বিপন্নকারী কোন রোগের সংক্রমণ বিস্তার লাভের সম্ভাবনা রয়েছে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।”
আটককৃতদের অনেককে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জরিমানা করছেন, সেসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় অভিযুক্তদের আদালতে উপস্থিত হতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, “নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকলে ঘটনাস্থলেই জরিমানা করে ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া সম্ভব হয়। সেরকম না হলে আমরা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠাই। পরে আদালত সিদ্ধান্ত নেন যে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে, জরিমানা করা হবে না কারাগারে পাঠানো হবে।”

Check Also

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ১১ বছরের কারাদণ্ড

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *