কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে প্রকাশ্যে গাছে বেঁধে নির্যাতন, জুতাপেটা ও “আত্মহত্যা কর” বলে গালিগালাজের পর রাজিব (২১) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপমান সহ্য করতে না পেরে ওই যুবক গলায় ফাঁস দিয়েছেন— এমন অভিযোগে নিহতের মা বাদী হয়ে স্থানীয় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চর বিশ্বনাথপুর গ্রামে। নিহত রাজিব ওই এলাকার সেলিমা ও হালিম উদ্দিন দম্পতির ছেলে। তিনি পরিবারের হাল ধরতে ঢাকায় একটি হোটেলে কাজ করতেন এবং সম্প্রতি তার পরিবার তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
মামলার এজাহার ও পরিবারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই সকালে রাজিব বাড়ির পাশে দোকানে যাওয়ার সময় ফারুক মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, জজ মিয়া, কফিল ও আনন্দ নামের পাঁচজন তাকে পথরোধ করে। পরে তাকে “মাদকসেবী” অপবাদ দিয়ে একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি, জুতা ও কিল-ঘুষি মেরে বেধড়ক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতন চলাকালে আসামিরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি “আত্মহত্যা কর” বলে হুমকি দেয়।
পরে স্থানীয়রা রাজিবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। তবে ওই দিন দুপুর থেকে বিকেলের কোনো এক সময়ে নিজ ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস নেন তিনি। স্বজনরা ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের মা সেলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “ছেলেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু থানায় প্ররোচনার মামলা করতে গেলে পুলিশ শুধু অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে। পরবর্তীতে তিনি বাধ্য হয়ে কিশোরগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ পেনাল কোডের ৩০৬/৩৪ ধারায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের নির্দেশ দিয়েছেন।




































