প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে দক্ষিণী তারকা যশের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এর মধ্য দিয়ে ২০২২ সালে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর পর বড় পর্দায় ফিরলেন যশ।
গীতু মোহানদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’ মূলত একটি পিরিয়ড গ্যাংস্টার অ্যাকশন ড্রামা। সিনেমাটির গল্প গড়ে উঠেছে এমন এক সময়ের গোয়াকে ঘিরে, যখন অঞ্চলটি পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল। এতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন যশ। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত। মুক্তির পর প্রথম শো-গুলো শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিনেমাটি নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন দর্শকরা। তবে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মতামত বেশ বিভক্ত।
অনেকেই যশের পর্দা উপস্থিতি, অ্যাকশন ও অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। একজন দর্শক লিখেছেন, যশের দাপুটে পর্দা উপস্থিতি এবং দুর্দান্ত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তার দৃশ্যগুলোকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। পুরো সিনেমাটাই যেন তার শো। বাঁশি বাজানোর মতো সংলাপ ও দৃশ্য, প্রচুর সহিংসতা—সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বেশ আকর্ষণীয় ও রহস্যময়।
আরেক দর্শক সিনেমার নারী চরিত্রগুলোর পাশাপাশি কিয়ারা আদভানির অভিনয়ের প্রশংসা করে লিখেছেন, টক্সিক নিজেই একটি আলাদা জগৎ। প্রধান নারী চরিত্রগুলোরও বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে। সিনেমাজুড়ে আবেগ ও অনুভূতির প্রাধান্য রয়েছে। কিয়ারা অসাধারণ। পরিচালক গীতু মোহানদাসের নির্মাণশৈলীও প্রশংসা পেয়েছে। এক দর্শকের ভাষায়, অসাধারণ। একেবারেই অসাধারণ। প্রতিটি বিভাগই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। বিশ্বাসই হচ্ছে না, গীতু মোহানদাস এত দুর্দান্ত কিছু বানিয়েছেন।
তবে সিনেমাটি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও কম নয়। এক দর্শক বেশ কঠোর সমালোচনা করে লিখেছেন, বন্ধুরা, আমি বাড়িয়ে বলছি না। টক্সিক এই দশকের অন্যতম লস প্রজেক্ট। আরেক দর্শক সিনেমার প্রথমার্ধ ও সম্পাদনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, টক্সিক-এর প্রথমার্ধ ছিল একেবারেই ‘টর্চারের’ মতো। মনে হয়েছে ৯০ মিনিটের একটি ট্রেলার দেখছি। সম্পাদনা পুরোপুরি এলোমেলো, আবেগের সঙ্গে কোনো সংযোগ তৈরি হয় না। একের পর এক দৃশ্য শুধু দীর্ঘ হতে থাকে। আমার বন্ধুরা সত্যিই হল থেকে বেরিয়ে গেছে। পুরো ব্যাপারটাই যন্ত্রণাদায়ক।
সিনেমার গল্প ও নারী চরিত্রগুলোর ব্যবহার নিয়েও সমালোচনা এসেছে। এক দর্শকের মন্তব্য, গল্প দুর্বল। আর পাঁচজন নায়িকাকে নেওয়াটা পুরোপুরি অপচয় মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে মুক্তির প্রথম দিনেই ‘টক্সিক’ নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট বিভাজন। ফলে দর্শক ও বক্স অফিসে সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত কতটা সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




































