পটুয়াখালীর বাউফলে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হওয়ার পর স্থান পরিবর্তন করে গোপনে কিশোরীর ‘কলমা পড়ানো’ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরীর বাবা ও মহসেন উদ্দীন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রহিম।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বগা ইউনিয়নের বগা বাজারের বড় মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগা ইউনিয়নের মৃত আবুল কালামের ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মহসেন উদ্দীন ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রহিমের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে মোছা. রিফা বেগমের বিয়ের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে শনিবার দুপুরে কনের বাড়িতে অতিথিদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল।
বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেয়। ইউএনও সালেহ আহমেদের নির্দেশে বিয়ের জন্য তৈরি করা প্যান্ডেলও সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মূল আয়োজন বন্ধ হওয়ার পর স্থান পরিবর্তন করে একটি হোটেলে অতিথিদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং সেখানে কিশোরীর ‘কলমা পড়ানো’ হয়। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে কাবিনের শর্ত পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলেও দাবি করেন স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামাল হোসেন।
তবে কিশোরীর বাবা মাওলানা আবদুর রহিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউএনও বিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার পর আর কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান হয়নি।
বাউফল থানার বগা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে দুপুরের খাবারের আয়োজন চলছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিয়ের জন্য তৈরি করা প্যান্ডেল ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা যদি কোনো ধরনের আইন অমান্য করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






























