নওগাঁর মান্দায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে কোমল পানীয়ের (টাইগারের) সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কশব ইউনিয়নের তালপাতিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুবর্ণা আক্তার সাদিয়ার বাবা জাহিদ হাসান বাদী হয়ে মান্দা থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন সাদিয়ার স্বামী রবিউল ইসলাম পলাশ (১৯), শাশুড়ি পারভিন বেগম (৩২) ও শশুর আব্দুল কাদের (৪০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের উত্তর বিল দুর্গাপাড়া গ্রামের জাহিদ হাসানের মেয়ে সুবর্ণা আক্তার সাদিয়ার সঙ্গে কশব ইউনিয়নের তালপাতিলা গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে রবিউল ইসলাম পলাশের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ছয় মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সাদিয়ার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় জাহিদ হাসান বিভিন্ন সময়ে নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত শনিবার দুপুরে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে সাদিয়াকে কোমল পানীয় (টাইগারে) সঙ্গে বিষ মিশিয়ে সাদিয়াকে জোরপূর্বক খাওয়ানো হয়। এমতাবস্থায় সাদিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় সুবর্ণা আক্তার সাদিয়া ও তার বাবা জাহিদ হাসান ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, আমার স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার সাদিয়াকে কোন ধরনের বিষ খাওয়ানো হয়নি। সে পরকীয়ার সঙ্গে জড়িত। এসব ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যে বানোয়াট আমাদের ফাঁসানোর জন্য টাইগারে বিষ মিশানো একটি নাটক সাজানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

































