আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ বিষয়ে জি-২০ সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলছে, আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার পাহাড়ি শহর অ্যাশভিলে জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা বৈঠকে বসবেন। জি-২০ এর মন্ত্রী পর্যায়ের আসন্ন বৈঠকগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম। এসব বৈঠকের মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে জি-২০ সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরবেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
বেসেন্ট দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের কাছেও বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরবেন। তবে কার কার সঙ্গে তার বৈঠক হবে, কিংবা তালিকায় চীন আছে কি না—তা জানানো হয়নি।
জি-২০তে বিশ্বের ১৯টি বড় অর্থনীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ সালের এশীয় আর্থিক সংকটের পর জোটটি গড়ে ওঠে।
তবে চলতি বছর জি-২০-এর মার্কিন সভাপতিত্বের সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র পোল্যান্ডকে বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
বৈঠকে থাকবে আরও যেসব বিষয়
ইরান ছাড়াও জি-২০ বৈঠকে অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং জ্বালানিসহ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জি-২০-এর আলোচনার পরিধি বাড়লেও এবার ট্রাম্প প্রশাসন ‘মূল অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে ফিরে যাওয়ার’ ওপর জোর দিতে পারে।
এর অর্থ হলো—ঋণ, বাণিজ্য, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক অর্থনৈতিক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

































