ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আর্থিক সহায়তার কথা বলে এক প্রতিবন্ধী নারীকে নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতব্বররা সালিশে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—ওই গ্রামের মনির আহমদের ছেলে সাকিব (১৮), ইব্রাহিমের ছেলে ইয়াছিন (১৬) ও আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরমান (১৫)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার দুপুরে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে একই এলাকার টমটমচালক সাকিব, আরমান ও বাদশা দুই সন্তানের জননী ওই নারীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর তাকে সেখানে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চলে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর সালিশে বসেন। সেখানে অভিযুক্তদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গুরুতর এ অপরাধের বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে মঙ্গলবার ভোরে ছয়ঘরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে সাকিব, ইয়াছিন ও আরমানকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আহাম্মদ মুন্না বলেন, ঘটনাটি তার এলাকার। একটা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে সালিশি বৈঠক করেছে এলাকার কিছু লোক। যা আইন বিরোধী। আমিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচাই চাই।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন , আমার স্ত্রী প্রতিবন্ধী। আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বলে ওই তিনজন তাকে ধর্ষণ করে। এলাকার সালিশদারদের চাপে সোমবার রাতে বৈঠকে বসি। সেখানে তিনজনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং আমাদের সালিশ মানতে বাধ্য করা হয়েছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


































