হামের প্রাদুর্ভাব এক সপ্তাহের মধ্যে কমে যাবে—এমন কোনো অবাস্তব আশ্বাস দিতে চান না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তবে সরকারের চলমান টিকাদান ও অন্যান্য কার্যক্রম সঠিকভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশে হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে শিশু হাসপাতাল ও আইসিডিডিআরবির যৌথ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা একদিনে কিংবা হঠাৎ করে সমাধান করা সম্ভব নয়। দেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি ছিল এবং মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীরও সংকট রয়েছে। তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যে হামের প্রকোপ কমে যাওয়ার কথা বলা বাস্তবসম্মত হবে না।
হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও মাঠকর্মীরা বাড়তি শ্রম দিয়ে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় ৪০ হাজার মাঠকর্মীর বিপরীতে ২৫ হাজার কর্মী দিয়েই এক মাসে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও বড় ধরনের কার্যক্রম বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হামকে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হিসেবে উল্লেখ করে এম এ মুহিত বলেন, গবেষণায় শিশুদের অ্যান্টিবডি ও বুকের দুধ খাওয়ানোসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তবে শুধু বেশি সংখ্যক হাসপাতাল বা ভেন্টিলেটর স্থাপন করে হামে মৃত্যু পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান, আর সেই কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিশু স্বাস্থ্যকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ৫ হাজার চিকিৎসক, ১ হাজার নার্স এবং ১ লাখ মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৮১৯ জন।
একই সময়ে দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জনের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম আজিজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।
গবেষণার মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।






























