বর্ষীয়ান রাজনীতিক কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে কে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। তাকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়ার কারণ জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক বলেছেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে, আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জুলাই বিপ্লবের চেতনার একজন বলিষ্ঠ ধারক ও যোদ্ধাকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করেছি।’
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে কর্নেল অলির নাম ঘোষণা করার পর তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমাদের বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য একজন ব্যক্তিকে আমরা নির্বাচন ও মনোনয়ন দিতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, আমাদের ১১ দলের বাইরেও, এমনকি বিএনপিরও যারা দেশকে ভালোবাসেন, দেশপ্রেমিক, তারাও আমাদের এই প্রার্থীর যোগ্যতার কথা এবং তার অগ্রগণ্যতার কথা স্বীকার করবেন। সেই হিসাবে আমরা প্রত্যাশা রাখি, তিনি ইনআশাল্লাহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আগামী বাংলাদেশকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেবেন। আপনাদের সবার কাছ থেকে আমরা সে সহযোগিতা চাই।’
১১ দলীয় ঐক্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, আমি সমগ্র জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের সব নেতাকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের মাধ্যমে আমরা জাতিকে বলতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না।
তিনি বলেন, ‘আমরা হারব না জিতব, এটা প্রশ্ন না। প্রশ্নটা হচ্ছে, আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব। আজকেও সেই মন-মানসিকতা নিয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে হয়েছি। সর্বসম্মতিক্রমে উনারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। আমি সমগ্র জাতিকে ধন্যবাদ জানাই।’
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরীক্ষিত একজন লোক, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নেই। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেশের কল্যাণের জন্য আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিটাকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। আপনারা দোয়া করবেন, আমাদের প্রত্যেকটি কাজ যেন জাতির জন্য হয়, জাতির কল্যাণের জন্য হয়। আমরা এ ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ কোনো আপস করব না। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য দায়িত্ব হিসেবে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি, সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে।’

































