ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে বুধবার (১৫ জুলাই) দুই দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তেহরান এ সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগে ভঙ্গ হওয়া যুদ্ধবিরতির পর। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইরান গত শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চলমান সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪.৯৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের গ্রেটার তুনব দ্বীপে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে প্রথম দফার হামলা চালানো হয়। প্রায় নয় ঘণ্টা পর দ্বিতীয় দফায় ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা হয়।
সেন্টকমের ভাষ্য, এসব হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের সবচেয়ে বড় বন্দর বান্দার আব্বাস এবং সেখানে থাকা নৌবাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের অবস্থান ও একটি রাডার স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানিয়েছে তারা।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবেই ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের খারগ দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল এমন একটি খালি তেলবাহী জাহাজ বারবার সতর্ক করার পরও না থামায় সেটিকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে অচল করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে পুনরায় নৌ অবরোধ শুরুর পর এ পর্যন্ত দুটি জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া এবং একটি জাহাজ অচল করার কথা জানিয়েছে তারা।
ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, বান্দার আব্বাস, আহভাজ, কোনারাক, সিরিক ও কেশমসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া রাজধানী তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে খোন্দাব শহরেও অন্তত দুটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, আহভাজের একটি হাসপাতালের কাছে মার্কিন হামলা হয়েছে। ওই হাসপাতালে শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র থাকায় রোগীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দফার হামলার পর ইরানের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে আছি।’ তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ওপরও জোর দেন।



































