ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাজধানী কিয়েভের একজন এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে দুই শিশুসহ ছয়জন রয়েছেন। এই হামলার মাত্র একদিন আগে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া ‘বড় ধরনের’ হামলা চালাতে পারে।
বৃহস্পতিবারের এই হামলা পশ্চিমাঞ্চলের লভিভ শহর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে হামলার পর নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে প্রতিবেশী পোল্যান্ড। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভে একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দুই শিশুসহ অন্তত ছয়জন এবং পোলতাভা অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন।
ক্রিভি রিহে নিহতদের মধ্যে পাঁচ ও ১২ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশু রয়েছে। শহরের প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান ওলেক্সান্দর ভিলকুল জানান, রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চল থেকে ছোড়া একটি ‘ইস্কান্দার-এম’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র একটি বড় পরিবারের বাড়িতে সরাসরি আঘাত হানে। এতে আটজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন লভিভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী কিয়েভ, লভিভ ও দনিপ্রোপেত্রোভস্কসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওদেসা শহরের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনের অভিযোগে তিনটি মালবাহী জাহাজেও হামলার দাবি করেছে মস্কো।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার এই সন্ত্রাস আবারও প্রমাণ করল, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করাই মানুষের জীবন রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।’
তিনি বলেন, এই দায়িত্ব শুধু ইউক্রেন বা কোনো একটি দেশের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
এর আগের দিন বুধবার জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নির্ভর করছে মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের ইচ্ছার ওপর।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরছিলেন। জেলেনস্কির দাবি, সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতিপত্র দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মিত্রদের প্রতি আবারও আহ্বান জানান, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ইউক্রেনকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম একমাত্র ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাট্রিয়ট’। তবে ইউক্রেনে এই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ‘পিএসি-৩’ প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই ঘাটতি আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন জেলেনস্কি। বৈঠক শেষে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকটি খুব ভালো হয়েছে।’
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় পেনজা শহরে শীর্ষ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর একটি গুদামে আগুন লাগে। পেনজার গভর্নর ওলেগ মেলনিচেঙ্কো জানান, এতে একজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর একদিন আগেও মধ্য রাশিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি স্থাপনা খালি করা হয়েছিল।
জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’ রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনে সহায়ক পণ্য বাণিজ্য করে। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া।



































