নওগাঁর মান্দা উপজেলায় চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায় একটি লিজ নেওয়া সরকারি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. আলম শেখ।
ঘটনাটি উপজেলার ২ নম্বর ভালাইন ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে। অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে— ইয়াসিন আলী মাস্টার, মো. মিজানুর রহমান (৪৫), মো. আজিজুল হক (৫৫), মো. মমতাজ হোসেন (৬৫), মো. তুহিন মোল্লা (৩৫), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৪০), মো. রতন (৪০), মো. এনামুল (৩২), মো. শফিকুল রহমান (৩৫) ও মো. আল-আমিনকে (৩৩)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর মৌজার ২১৯ নম্বর দাগের প্রায় ০.৭০ একর আয়তনের সরকারি পুকুরটি গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তানইল-মনোহরপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড লিজ নেয়। সমিতির অনুমতিক্রমে মো. আনোয়ার হোসেন সেখানে মাছ চাষ শুরু করলে অভিযুক্তরা পুকুরটি নিজেদের এলাকায় দাবি করে সেটি ছেড়ে দিতে অথবা ২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলেন বলে অভিযোগ করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া গত ২৯ জুলাই বৈদ্যপুর বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদীর বাবা আনোয়ার হোসেনকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। এরই জের ধরে গত ৪ আগস্ট রাতে অভিযুক্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে বলে অভিযোগ করেন বাদী। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইয়াসিন আলী ও আজিজুল হক। তারা বলেন, পুকুরটি কে লিজ নিয়েছে, কারা মাছ চাষ করে কিংবা কীভাবে মাছ মারা গেছে— এসব বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। তাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইয়াসিন আলী বলেন, কিছুদিন আগে বৈদ্যপুর বাজারে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
২ নম্বর ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাতের আঁধারে কে বা কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে, বিষয়টি সত্য।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খোরশেদ আলম বলেন, “মাছ মারা সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

































