জীবনের সর্বস্তরে পরিমিতিবোধ, ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।
আজ রোববার (১০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আসুন, পবিত্র রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাবতীয় ভোগবিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ, উচ্ছৃঙ্খলতা ও সংঘাত পরিহার করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরস্পরকে সহযোগিতা করি। জীবনের সর্বস্তরে পরিমিতিবোধ, ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করি।’
পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি তারা আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে বলেন, রমজান মাস হচ্ছে আত্মসংযম, অনুকম্পা ও ক্ষমা লাভের মাস। এ মাসে ত্যাগ, সংযম স্বীকারের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ হয়।
তারা আরো বলেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ বা ১৩ মার্চ থেকে আরবি মাস রমজান শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ। বিশ্বের অন্য মুসলমানদের সঙ্গে বাংলাদেশের মুসলমানরাও মাসব্যাপী ধর্মীয় আচার পালন করবেন। কিন্তু এ মাসকে কেন্দ্র করে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। বিশেষ করে খেজুর, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা বাড়ে দ্বিগুণের বেশি। মানুষের অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীদের একটি শ্রেণি নিজেদের মনমতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে থাকে।
এ ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে বাজার দর আজ উর্ধ্বমুখী। যা সরকারের জন্য চরম ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে। তাই আমরা বাজার মনিটরিং করে সেই সব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
তারা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রমজান মাসে পারস্পরিক সহোযোগিতাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে ব্যবসা করুন। অন্তত রমজান মাসকে ব্যবসার উপলক্ষ্য বানাবেন না। এ মাস ইবাদতের মাস। এ মাসে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের ইবাদতে যেন ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখুন। দ্বিগুণ সওয়াব লাভের আশায় ন্যায্য মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ভোক্তাদের পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করুন। আল্লাহ আপনাদের ব্যবসায় বরকত দিবেন ইনশাআল্লাহ।
মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় দিনের বেলায় হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে হেফাজত আমীর ও মহাসচিব দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আরো বলেন, রমজানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, মদ, জুয়া, সুদ ও ঘুষ বর্জন করুন। নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাধান্য দিন। বেশী বেশী তওবা, ইস্তিগফার ও কুরআন তেলাওয়াত করুন।
নেতৃদ্বয় সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়ে আরো বলেন, রোজার মধ্যেই কারাবন্দি হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে মুক্তি দিন এবং ২০১৩ সাল থেকে অদ্যাবধি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন।
































