বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতবিনিময় করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার, ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনা এবং উচ্চশিক্ষা রূপান্তরবিষয়ক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশের সমন্বয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এ কর্মপরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।’
কর্মপরিকল্পনায় পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, শিক্ষক উন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের উৎকর্ষ এবং সুশাসন ও মাননিশ্চিতকরণ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন ও এআইভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাও চালু করা হবে।
এ ছাড়া গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও একাডেমিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো, সমন্বিত জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরের রূপরেখা ইউজিসির কাছ থেকেই আসা উচিত। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউজিসির ভূমিকা আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে হবে।’
তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চশিক্ষা সংস্কার উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে চীন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়, তাদের মেধার উৎকর্ষ নিশ্চিত করা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার গন্তব্যে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, একাডেমিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিকীকরণে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, কর্মপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করার আগে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করা হবে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে।
সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




































