কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি। এছাড়া ১৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে বহুতলটির ভেতরে ছত্রে ছত্রে অনিয়ম ও অব্যবস্থার চিত্র দেখা গেছে। পাঁচতলা ভবনটির প্রায় প্রতিটি তলাতেই ছিল সংকীর্ণ ঘর, সরু চলাচলের পথ এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ।
অভিযোগ উঠেছে, ওই ভবনের বিভিন্ন তলায় একাধিক হোটেল চলছিল। প্রতিটি তলাতেই ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে আবাসিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, ঘরগুলো ছিল অনেকটা পায়রার খোপের মতো। বড় কোনো কক্ষ ছিল না। প্রতিটি তলায় একাধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চলত বলেও জানা গেছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।
অভিযোগ, সেখানে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না। আগুন লাগার পর ভবন থেকে বের হওয়ার জন্য বিকল্প পথও পাওয়া যায়নি। মূল প্রবেশ ও বের হওয়ার পথটি ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ। ফলে মধ্যরাতে আগুন লাগার পর ঘুমন্ত আবাসিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় পুরো ভবন ঢেকে যাওয়ায় অনেকে বের হতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শৌচাগারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। একজন ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে বলা হয়েছে, নিউমার্কেট এলাকায় এ ধরনের একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। ভিনরাজ্য থেকে আসা মানুষ ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা অনেকে এসব হোটেলে থাকেন। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলেও বাংলাদেশ থেকে আসা বেশ কয়েকজন ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের খবর, নিহত ৯ জনের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি নাগরিক। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির অনুমোদন, নির্মাণ পরিকল্পনা এবং ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের ভেতরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঘর তৈরি করা হয়েছিল। কলকাতা পৌরসভার অনুমোদিত ভবন পরিকল্পনার নিয়ম মানা হয়েছিল কিনা, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, কীভাবে ওই ভবনে হোটেল চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং কীভাবে ব্যবসার অনুমতি মিলেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি এ ঘটনাকে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়কার অনিয়মের ফল বলেও মন্তব্য করেন।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ভবনের অনুমোদন এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভবনটির অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঠিক কী ধরনের অনিয়ম ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


































