নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২২ লাখ মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে চীন। সেইসঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বন্যায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। জানা গেছে, চীন সরকার ৩৫ কোটি নেপালি রুপি সহায়তা দিয়েছে, যা প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। এর পাশাপাশি চীনা রেড ক্রস দিয়েছে আরও ২ লাখ ডলার।
রোববার (৩০ আগস্ট) নেপালে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিং নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলের হাতে ৩৫ কোটি নেপালি রুপির একটি চেক তুলে দেন। একই দিন চীনা রেড ক্রসের দেওয়া ২ লাখ ডলারের সহায়তাও নেপাল সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চীনা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নেপালের অর্থমন্ত্রীকে রাষ্ট্রদূত ঝাং বলেন, ‘এই দুর্যোগে নেপাল একা নয়, চীন সবসময় নেপালের পাশে আছে।’ চীনা নেতারা বন্যায় প্রাণহানিতে গভীর দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। ধারণা করা হচ্ছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়া বা তুষারধসের কারণে এ বন্যার সৃষ্টি হয়।
হিমালয় সীমান্ত এলাকা থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত ভোতেকোশি নদী বন্যার পানিকে নিচের দিকে নিয়ে যায়। এতে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
এদিকে, ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও প্রায় ৪ হাজার ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যার প্রভাব পড়েছে সীমান্তের ওপারে চীনেও। চীনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর প্রায় ৫৫০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

































