দখলদার ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। রোববার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত ওই ভিডিওতে ফিলিস্তিনি নারী নিরাপত্তা বন্দিদের কারাগারের কঠোর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করার জন্য ধমক দিতে দেখা যায় তাকে। একইসঙ্গে তিনি নিজের কঠোর কারা-নীতির প্রশংসা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ওই ভিডিওতে বেন-গভিরকে ইসরাইলের ডেমন কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিও কবে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওতে এক নারী বন্দি অভিযোগ করেন, কারাগারের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। তিন দিন ধরে তারা গোসল করতে পারেননি, পরিষ্কার পোশাক পাচ্ছেন না এবং চিকিৎসাসেবাও মিলছে না। ওই নারী বন্দি বলেন, আমরা তিন দিন ধরে গোসল করতে পারিনি। আমরা চিকিৎসা পাচ্ছি না এবং আমাদের পোশাকও পরিষ্কার নয়। বন্দিরা জানান, নারী হিসেবে তাদের প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে না। তাদের সেলে পর্যাপ্ত পানি ও স্বাভাবিক গোসলের ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগে সহানুভূতি দেখানোর পরিবর্তে বেন-গভির তার সরকারের কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ইসরাইলি কারাগারে বন্দিদের আগের মতো ‘ভালো’ পরিস্থিতি আর নেই এবং তিনি নিজেই এর জন্য সরাসরি দায়ী। বেন-গভির বলেন, কারাগারে ভালো পরিস্থিতির দিন শেষ। এখন এটাই বাস্তবতা এবং এর জন্য আমি সরাসরি দায়ী। এই পরিস্থিতিতে আমি সন্তুষ্ট।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অভিযোগকে ‘হাহাকার’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তার দাবি, বন্দিদের জন্য কারাগারের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে ‘ন্যূনতম পর্যায়ে’ নিয়ে আসা হয়েছে। আমি এটি করতে পেরে গর্বিত।
বেন-গভিরের এই ভিডিও প্রকাশের পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বন্দিবিষয়ক কমিশন তার আচরণকে ‘বর্বরতা, ঘৃণা ও বর্ণবাদ’ বলে অভিহিত করেছে। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবও অভিযোগ করেছে, নারী বন্দিদের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা তাদের মানবিক মর্যাদার ওপর আক্রমণ।
এটি বেন-গভিরের এমন কর্মকাণ্ডের প্রথম ঘটনা নয়। চলতি মাসের শুরুতেও তিনি এক ফিলিস্তিনি নারী বন্দির সঙ্গে কথা বলার ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। ওই নারী খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ করলে বেন-গভির তাকে বলেছিলেন, ‘খাবার ভালো হওয়া উচিত নয়। এটা কোনো হোটেল নয়।’
ইসরাইলি রাজনীতিতে উগ্র ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত বেন-গভির ২০২২ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের জন্য কঠোর কারা-নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

































