ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে কোটাবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বহু আন্দোলনকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তাদেরকে আটক করা হয়। ব্যাপক হারে মানুষ সমাগমের কারণে বিক্ষোভস্থলের ভেতরে ও বাইরে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বিক্ষোভস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের আটক করছেন। আটক হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পুরুষ। এ সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যানার, পোস্টার ও গেরুয়া পতাকা নিয়ে জড়ো হন এবং জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
সরকারি সহায়তা ও সংরক্ষণের যোগ্যতা নির্ধারণে জাতের পরিবর্তে অর্থনৈতিক অবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা সংগঠিত হন। বিক্ষোভের আগে যন্তর মন্তরে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। যন্তর মন্তরের দিকে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্থাপন করা হয় ব্যারিকেডও।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে কোনো বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে শুক্রবার রামলীলা ময়দানে ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় জেলার উপপুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনাপত্তিপত্র অনুযায়ী, বিকেল ৪টা পর্যন্ত রামলীলা ময়দানে সর্বোচ্চ ৫০০ জন জমায়েত হতে পারতেন। আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ আয়োজনে পুলিশের কোনো আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়।
‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’ নামে ইনস্টাগ্রামভিত্তিক একটি পেজ এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়। পরে পেজটি ২১ আগস্ট যন্তর মন্তরে সরাসরি বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানায়। ইনস্টাগ্রামে পেজটির অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫৬ লাখ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারি সহায়তা কারা পাবেন, তা নির্ধারণে অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। শিক্ষা ও কোচিংসহ অন্যান্য প্রয়োজনেও সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাত নয়, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার সঙ্গে যুক্ত এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমাদের দাবি হলো, কার সরকারি সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণে অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিবেচনা করা উচিত। জাতি নির্বিশেষে দরিদ্র ব্যক্তিকে শিক্ষা, কোচিং ও অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য সহায়তা দেওয়া উচিত।’
আরেক বিক্ষোভকারী বর্তমান সংরক্ষণব্যবস্থা পর্যালোচনার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘এর সুবিধা সব সময় সবচেয়ে বঞ্চিত শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছায় না। আমরা কয়েক বছর ধরে এই বিষয়টি তুলে ধরছি। আমাদের বক্তব্য হলো— বর্তমান ব্যবস্থা তার উদ্দেশ্য পূরণ করছে কি না এবং সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা সরকারের পর্যালোচনা করা উচিত।’




































