ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ঐক্য ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের ঐক্যই শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরানের সামিট হলে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তার মতে, ইসলামি ঐক্যই মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা, স্বাধীনতা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রধান কৌশল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর চালানো আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইরান দৃঢ়ভাবে সেই আগ্রাসনের মোকাবিলা করেছে।
পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, কোনো মুসলিম দেশের নিরাপত্তা প্রতিবেশী দেশের অনিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। একইভাবে কোনো মুসলিম দেশের ভূখণ্ড অন্য মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর ৫৭টি সদস্যরাষ্ট্রে দুই বিলিয়নেরও বেশি মুসলমান বাস করে। এসব দেশের রয়েছে বিপুল জ্বালানি সম্পদ, কৌশলগত বাণিজ্যপথ, বৃহৎ বাজার, তরুণ জনশক্তি এবং উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। তবে এসব শক্তিকে এখনো সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি ও কার্যকর ক্ষমতায় রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান সংঘাতের সূচনা করেনি; বরং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে। তবে আত্মরক্ষার অর্থ প্রতিবেশী বা অন্যান্য মুসলিম দেশের প্রতি বৈরিতা নয়। তিনি বলেন, ‘কোনো ইসলামি ভূখণ্ড অন্য কোনো ইসলামি দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না।’
তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ফিলিস্তিনের প্রতি ইরানের সমর্থনকে নিপীড়িত জনগণের পক্ষে অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেন, যা কোনো সাম্প্রদায়িক বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে নয়।
এছাড়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অনাক্রমণ চুক্তি, ওআইসির অধীনে স্থায়ী মধ্যস্থতা ও সংঘাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।
‘ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনি খামেনির চিন্তায় ইসলামি ঐক্য’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলন আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তেহরান, কোম ও মাশহাদে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি পশ্চিম আজারবাইজান, কোরদেস্তান, গোলেস্তান ও রাযাভি খোরাসান প্রদেশেও বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনের লক্ষ্য হলো ইসলামি ঐক্য, শান্তি, নিরাপত্তা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা। একই সঙ্গে ইসলামি পরিচয়, সুশাসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননের ইস্যুগুলোও এতে গুরুত্ব পাচ্ছে।


































