শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ‘আসক্ত’ করার অভিযোগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ‘মেটা প্ল্যাটফর্মস’-এর বিরুদ্ধে আমেরিকার ২৫টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। তবে মুনাফার আশায় জেনেশুনে শিশুদের আসক্ত করার এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যতের ওপর এক বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের একটি দ্বিদলীয় জোট মেটার বিরুদ্ধে এই মামলা করে। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মডেলে আমূল পরিবর্তন আনার দাবি জানানোসহ শত শত কোটি ডলারের জরিমানা চাওয়া হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি এবং নিউজার্সির নেতৃত্বাধীন এই জোট অভিযোগ করে যে, মেটা শিশুদের নজর কাড়তে ও যুক্ত রাখতে অ্যাপগুলোর ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করেছে যা কম বয়সি ব্যবহারকারীদের মনে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি করছে। একইসঙ্গে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে ব্যবহারেরও অভিযোগ আনা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেগান ওনিল জুড়িদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মেটার ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলা, যতটা সম্ভব আটকে রাখা, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা এবং সত্য গোপন করা।’
অন্যদিকে, মেটার আইনজীবী পল স্মিথ দাবি করেন, গবেষণা বা তথ্যে কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং তাদের মানসিক ক্ষতির মধ্যে কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির সিইও মার্ক জাকারবার্গ মেটার সেবাগুলোকে নিরাপদ করতেই চেয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ করতে নয়।
জানা গেছে, এই মামলায় ৮ সদস্যের জুড়ি বোর্ড একটি পরামর্শমূলক রায় দেবে, তবে চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করবেন মার্কিন জেলা বিচারক ইভন গনজালেস রজার্স। মেটা দোষী প্রমাণিত হলে আদালত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের জরিমানা এবং অ্যাপগুলোর ডিজাইনে বেশ কিছু বাধ্যতামূলক পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারেন।
মেটার মতে এই জরিমানার পরিমাণ ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রসিকিউটরদের মতে এই পরিমাণ আনুমানিক ২০০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা মেটার প্রায় তিন বছরের নিট মুনাফার সমান। মেটা যদি দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে আদালত জরিমানার পাশাপাশি অ্যাপগুলোতে ইনফিনিট স্ক্রোল বন্ধ করা, লাইক অপশন তুলে নেওয়া এবং ১৩ বছরের কম বয়সিদের ব্যবহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মতো কঠোর নির্দেশনা দিতে পারেন।
মামলার প্রধান সাক্ষী, মেটার সাবেক নিরাপত্তা প্রকৌশলী আরতুরো বেজার আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান যে, মেটা জানত তাদের শিশু সুরক্ষা সরঞ্জামগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। তিনি বলেন, ‘রিলস’-এর মতো নতুন ফিচার চালুর সময় নিরাপত্তার বিষয়টিকে মোটেই প্রাধান্য দেওয়া হয়নি।
ইতোমধ্যে অন্য একটি মামলায় নিউ মেক্সিকোর আদালত মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরি মেটা ও গুগলকে ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা এই ঐতিহাসিক বিচারে মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরিরও সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।




































