তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োমেডিকেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌভিক সাহা। তাকে খুঁজতে গিয়ে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সৌভিক নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর তার খালাতো ভাই কমলের স্ত্রীও (ভাবি) নিখোঁজ হয়েছেন। দুজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও পরিবার।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সৌভিক তার খালার বাড়ি থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বের হন। একই বাসা থেকে তার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রীও রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বের হন। এরপর দুজনের কারো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সৌভিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় খুলনার দৌলতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে তার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এখনো জিডি করা হয়নি। পুলিশ ও সৌভিকের খালাতো ভাইয়ের ধারণা, সৌভিককে পাওয়া গেলে তার স্ত্রীকেও একসঙ্গে পাওয়া যেতে পারে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, সৌভিক মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ার রাজারহাটপুরের বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ক্যাম্পাসে আসেন। পরে ক্যাম্পাস থেকে ঝিনাইদহগামী একটি বাসে ওঠেন। এরপর তিনি খুলনায় তার খালার বাসায় যান। সেখানে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খালার বাসা থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
সৌভিকের মা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সৌভিক মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি কোনো বাস বা ট্রেন পাচ্ছেন না বলে জানান। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
দৌলতপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌভিকের ফোন বন্ধ হওয়ার পর তার খালাতো ভাইও থানায় আসেন। তিনি জানান, তার স্ত্রীও ওইদিন নিখোঁজ হয়েছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানিয়েছি। ওই শিক্ষার্থীর বাবা কুষ্টিয়ায় জিডি করতে গিয়েছিলেন। পরে তার সর্বশেষ অবস্থান খুলনার দৌলতপুর এলাকায় হওয়ায় আমাদের অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে জিডি করেছেন। তবে এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বরাত দিয়ে সৌভিকের খালাতো ভাই কমল জানান, সৌভিক মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তার বাসা থেকে বের হন। এরপর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার স্ত্রীও বাসা থেকে বের হন। দুজনই এখন নিখোঁজ। সৌভিকের জন্য জিডি করা হয়েছে। সৌভিককে পাওয়া না গেলে তার স্ত্রীর নিখোঁজের বিষয়েও জিডি করা হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু পরে জানতে পেরেছি, তার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রীও নিখোঁজ। এখন ঘটনা অন্যদিকেও যেতে পারে।
সৌভিক ও তার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রীর নিখোঁজের ঘটনায় তাদের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ তাদের সন্ধানে কাজ করছে।



































