বরিশাল অফিসঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে সমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জিএসএর বরিশাল জেলা নির্বাহী সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান মিরাজ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা দপ্তর সম্পাদক হাছিব আহমেদ।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জিএসএর প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হাসান মারুফ রুমী। এছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুবিনা ইয়াসমিন, জেলা কমিটির সহ-নির্বাহী সমন্বয়কারী মারুফ আহমেদ, অর্থ সম্পাদক ইয়াসমিন সুলতানা এবং সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিব। এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের বরিশাল জেলার বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনেই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সরকার ও সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব দলের স্বাক্ষরে গৃহীত জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ গণআন্দোলন। এ আন্দোলনে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়েছেন। তাই এই অর্জন কেবল সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি সম্ভব হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র, জবাবদিহিহীন শাসনব্যবস্থা এবং এককেন্দ্রিক ক্ষমতার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই সনদ সেই সাংবিধানিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হাসান মারুফ রুমী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে বাংলাদেশকে বহুমতের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, কল্যাণমুখী, সার্বভৌম ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় পুনর্গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।































