লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি তেল ট্যাংকারে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫১ ডলার ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ সেন্ট বা ১ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ৭৬ দশমিক ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চলে সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রফতানি বন্দর ইয়ানবু-এর উপকূলবর্তী এলাকায় ‘ওয়াফা’ নামক একটি তেল ট্যাংকারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
গত ২২ জুলাই থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শুরু করা তাদের স্বঘোষিত নৌ-অবরোধের পর থেকে এটি অষ্টম সৌদি তেল ট্যাংকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এবং ওমানের মধ্যে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন করে হুথি হামলার কারণে সেই শান্তি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নৌ চলাচল এবং তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা যে প্রত্যাশা করেছিলেন, তাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
গতকাল মঙ্গলবার কাতার জানিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারীরা অগ্রগতি করছেন। এই খবরে মঙ্গলবার তেলের দাম ৫ শতাংশ কমে যায় এবং ১৩ই জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে হুথিদের এই হামলার ফলে তেলের দাম আবারও বাড়তে থাকে।
যদিও সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি- আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন এইচ নাসের জানিয়েছেন, হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলার কারণে তাদের তেল উৎপাদন বা সরবরাহের সক্ষমতায় বড় কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি।




































