জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, একসময় তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে আদর্শগত পরিবর্তনের কারণে সেই সংগঠন ছেড়ে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানে এসেছেন।
সম্প্রতি একটি টকশোতে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময় অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ না থাকায় তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শের পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি সেই পথ থেকে সরে আসেন।
তিনি জানান, আদর্শগতভাবে পরিবর্তন আসার পর আমি নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, চাইলে তিনি শিবিরের রাজনীতিতে থেকেই ধাপে ধাপে আরও ওপরে যেতে পারতেন। তবে নিজের বিশ্বাস ও রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পথ বেছে নিয়ে বর্তমানে এনসিপির রাজনীতি করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদর্শিক রাজনীতি ও বাস্তব রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক ধারণা কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারলে সেই রাজনীতির সীমাবদ্ধতা থেকে যায়।
বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, তাদের প্রথম পছন্দ ছিল সংস্কারভিত্তিক ঐকমত্য। কিন্তু বিএনপি সংস্কারের বিষয়ে সম্মত না হওয়ায় তারা এমন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে পথ চলেছেন, যারা সংস্কারের প্রশ্নে একমত ছিল।
সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যকে ঘিরে ওঠা ‘মোরাল টারপিচিউড’ (নৈতিক স্খলন) সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব জামায়াতে ইসলামীর। তবে নীতিগতভাবে তিনি মনে করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কেউ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জড়িত হলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘদিনের অনাস্থা ও দলগুলোর পারস্পরিক দূরত্বের ফল। গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংলাপ প্রয়োজন এবং সহিংসতা কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।




































