বিশেষ সাক্ষাতকার | আবু নাসের রাজনীতিতে নতুন মুখ, হঠাৎ বরিশালে কেন আসলেন? বর্তমানে দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি’র ভাবনা এবং বরিশালে ভোটের রাজনীতি বিষয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। একান্ত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক সময়ের বার্তার সিনিয়র সাংবাদিক মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয়।
সময়ের বার্তা: আপনি বরিশালের রাজনীতিতে নতুন মুখ, হঠাৎ বরিশালে কেন আসলেন?
আবু নাসের রহমাতউল্লাহ: আমি জন্মসূত্রে বরিশালের সন্তান। দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করাই আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। আমি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করার পর বুঝেছি, বরিশালের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের জন্য সরাসরি এখানে কাজ করা দরকার। তাই বরিশালে এসেছি, মানুষের জন্য কিছু করতে।
সময়ের বার্তা: আপনি একটি দলের মহাসচিব ছিলেন, সেই দল ছেড়ে বিএনপিতে আসার কারণটা কী?
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ : আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। আগের দলে সেই গণতান্ত্রিক চেতনা আমি খুঁজে পাইনি। বিএনপি গণমানুষের দল, আন্দোলন-সংগ্রামের দল। দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল হওয়ায় এই দলের কাজের পরিসরটা বড় তাই আমি বিএনপিকে বেছে নিয়েছি।
সময়ের বার্তা: বিএনপি আপনাকে কতটুকু মূল্যায়ন করলো? আপনি ২০১১ সালে বিএনপিতে যোগ দিলেন অথচ এখনো দলের জাতীয় সদস্য হিসেবে রইলেন আগের দলে তো মহাসচিব ছিলেন?
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ: বিএনপি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এই দলের কোটি নেতাকর্মী- সমর্থক। সেখানে চাইলেই মূল্যায়নটা সহজ নয়। আমি কখনোই পদের রাজনীতি করিনি। ২০১১ সালে যখন আমি বিএনপিতে যোগ দেই তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ বিএনপির সকল সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন, এটি আমার জন্য বড় পাওয়া।
ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে বহু নিপীড়নের শিকার হয়েছি, দল আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করবে তাতেই আমি সন্তুষ্ট। আমি বিএনপি’র কর্মী হয়ে থাকতে চাই। এ নিয়ে আমার কোন কষ্ট নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জনাব তারেক রহমান যে নির্দেশনা দেবেন তা বাস্তবায়ন করার জন্য আমৃত্যু লড়বো। তার জন্য কোন পদের দরকার নেই।
সময়ের বার্তা: বর্তমান দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ : বর্তমানে দেশের অবস্থা উদ্বেগজনক। ক্রমান্নয়ে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। ইউনুস সরকার দেশ পরিচালনা করতে বারে বারে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। দেশকে কেবল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে একমাত্র নির্বাচিত সরকার। তাই অনতিবিলম্বে নির্বাচন দেওয়াটা জরুরী। আশা করা যায়, নির্বাচন দিলে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
সময়ের বার্তা: বরিশাল-৫ আসনে আপনি কেন নির্বাচন করতে আগ্রহী?
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ: বরিশাল-৫ আমার নিজের এলাকা। এখানে যারা বিগত দিনে এমপি হয়েছে তাদের কারো জন্ম বরিশাল সদর আসনে নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অনেক লোক দেখানো উন্নয়ন করলেও, সেই উন্নয়ন প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এখানকার মানুষের সমস্যা অনেক,তাদের প্রত্যাশা আমি বুঝি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান—সবকিছুতে ব্যাপক পরিবর্তন দরকার। তাই আমি নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। ৫ আসনের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।
সময়ের বার্তা: বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে আপনি কিভাবে দেখেন?
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ : আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি এমন কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। কয়েকজন ব্যক্তির অপকর্মের দায় পুরো দল নিতে পারে না। আমরা স্বচ্ছ রাজনীতি চাই। যারা অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের কে বিএনপি নানাভাবে শাস্তি দিচ্ছে এবং বহিষ্কার করছে। আমি জনসাধারণকে বলবো, যারা এই অপকর্ম করবে তাদেরকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিন। এটি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ।
সময়ের বার্তা : বরিশালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অভাবনীয় কোন্দল রয়েছে, এতে বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা?
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ: অভ্যন্তরীণ কোন দল কখনোই একটি দলের জন্য ভালো ফসল বয়ে আনে। যত বেশি বিবেদ তত অনৈক্য দেখা দেয়। যারা দলের ভিতরে ভাঙ্গন ধরাতে চায় তারাই কেবল গ্রুফিং করে। যা কোনমতেই গ্রহনযোগ্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে গণমানুষের দল বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যে সকল নেতা-কর্মীরা এই গ্রুপিং রাজনীতির সাথে জড়িত, তাদেরকে বলবো, আপনারা এই জায়গা থেকে সরে এসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কাজ করুন। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।
সময়ের বার্তা : আপনার দলীয় কর্মকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোন বাধার শিকার হয়েছেন কিনা?
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ : না, এখন পর্যন্ত এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির ভিতরে পড়িনি। আর আমি কখনোই নোংরা রাজনীতি করিনা। এগুলোকে সমর্থন দেই না। সবাইকে নিয়ে আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।
সময়ের বার্তা: বরিশালের তরুণ সমাজের উপর আপনার বার্তা কী থাকবে?
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ : তরুণ সমাজই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে, দুর্নীতি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে তারা দেশকে বদলে দিতে পারে। তারা বিগত ১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি। এবারে তাদের অবশ্যই গ্রহণযোগ্য একটি দলকে ভোট দিতে হবে। যারা এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও এদেশের জাতীয়তাবাদকে হৃদয়ে ধারণ করে। সেটি কেবল বিএনপি।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে বাধা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিতর্কিত নেতাদের
সময়ের বার্তা : আপনার যদি একান্ত কোনো কথা জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলার থাকে, বলতে পারেন।
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ : আমি শুধু এটাই বলতে চাই, পরিবর্তন একা সম্ভব নয়। আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষ যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে পারব। একটি সাম্য – মানবিক মর্যাদা পূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই। তাই জনসাধারণের প্রতি আমার আকুল আবেদন, আপনারা ভালো কাজে এগিয়ে আসুন। দেশকে সামনের দিক্র এগিয়ে নিয়ে যান।
সময়ের বার্তা : আপনাকে ধন্যবাদ
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ : আপনাকেও ধন্যবাদ ,
বিশেষ সাক্ষাতকার | আবু নাসের রাজনীতিতে নতুন মুখ, হঠাৎ বরিশালে কেন আসলেন?
উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।





























