বরিশাল অফিসার্স সমবায় সমিতির তানু-কুদ্দুস’র কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য!> স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল অফিসার্স সমবায় সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে সমিতির বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সমিতির বর্তমান সভাপতি গোলাম কাদের তানু ও সস্পাদক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস স্বৈরাচারের এক দোষরের এর ক্ষমতার দাপটে গত ১৫ বছর ধরে সমিতির কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। বরিশাল অফিসার্স সমবায় সমিতির সদস্যদের কর্তৃক দায়েরকৃত অভিযোগে আরো বলা হয়, সমিতির জি ৯+ তলা ভবনের নির্মান কাজ করতে গিয়ে পুকুর চুরি করেছে তানু-কুদ্দুস গং। এ সময় ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে তারা।
চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাইয়ে ঠিকাদার বিএসআরএম রড দেয়ার কথা থাকলেও কুদ্দুস গংকে ম্যানেজের মাধ্যমে বিএসআই রড এবং নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে ছাদ ঢালাই এর কাজ করে। এ বিষয় ১৮/০২/২০২০ তারিখ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আলোচনা হলে সেখানে ঠিকাদারকে বাচাতে মরিয়া হয়ে ওঠে কুদ্দুস গং। পরবর্তীতে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঠিকাদারের কাছ থেকে নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী না দেয়ার প্রতিশ্রুতি গ্রহন করলেও সেটা ছিল আইওয়াশ মাত্র।
চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাই’র এমন কান্ডের পরে নির্মান উপ-কমিটির সদস্য মোসলে উদ্দিন নির্মান তদারকি বন্ধ করে দেয়। সেই সুযোগে কুদ্দুস বাহিনী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম তলার ছাদ অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে নির্মিত হতে সহযোগিতা করে। উক্ত কাজের দুর্ণীতি সম্পর্কে ০৯/৬/২০ তারিখের রেজুলেশনে উল্লেখ আছে। রেজুলেশনে আরো উল্লেখ আছে যে, উক্ত কাজের অনিয়মের ব্যাপারে সভাপতি-সম্পাদক কখনোই ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবহিত করেনি।
ডাকসু’র সাদিক ভিপি, ফরহাদ জিএস নির্বাচিত
ভবনটি নির্মানে এহেন অনিয়ম ও দূর্ণীতির কারনে ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ন, যা বুয়েট কর্তৃক পরিক্ষা নিরীক্ষা করলে প্রতীয়মান হবে। সমিতির ছয় তলা ভবনের (বর্তমানে বেলভিউ) পূর্ব দিকের বর্ধিত অংশ প্লানবর্হিভুত ভাবে নির্মান করা হয়েছে। যা বর্তমানে উক্ত ভবনে ঢোকার গেট বা পথ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যা ডিজাইন ও বাজেট বর্হিভুত এবং নির্মানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে সমিতিটি ব্যাপক টাকা লুটপাট করেছে করেছে আঃ কুদ্দুস গং। যা উক্ত ভবনের প্লান, ডিজাইন ও তৎকালিন নির্মান ভাউচার দেখলে প্রতীয়মান হয়।
এছাড়া সমিতির পুরাতন ভবন ভাঙ্গার সময় বাউন্ডারি লোহার গ্রীল, পুরাতন ইট, শুরকি বিক্রির টাকা সমিতিতে সঠিক ভাবে জমা না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেছে আঃ কুদ্দুস গংরা। এগুলো সরানোর জন্য উল্টো সমিতি থেকে টাকা নিয়েছে। যা তৎকালিন নথিতে দৃশ্যমান। সমিতির পুরাতন ভবনের স্থলে ছয় তলা ভবনের প্লান পাশ করানো, ডিজাইন ও নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে কুদ্দুস গং সমিতির লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে।
যা তৎকালিন নথিতে দৃশ্যমান। ছয় তলা ভবনের উপরে প্লান বর্হিভুত ও অবৈধ ভাবে দুইটি তলা নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন। ফলে ভবনটি অতন্ত ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। স্বৈরাচারের এক দোষরের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে এমন অনিয়ম করেছে কুদ্দুস বাহিনী। যা সরেজমিন তদন্ত, ভবনের প্লান ও ডিজাইনে প্রতীয়মান আছে। এ বিষয় নিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সমিতিকে কয়েক দফায় নোটিশ করলেও সমিতি কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি।
ছয় তলা ভবন ও জি ৯+ ভবন নির্মানের সময় দুইবারে ৩টি গভীর নলকুপ বসানের সিদ্ধান্ত হয়। তদানুসারে কোন রকম টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই ১টি নলকুপ বসিয়ে ৩টি গভীর নলকুপের বিলের টাকা সমিতি থেকে উত্তলন করে আত্মসাৎ করে আঃ কুদ্দুস গং। ২৭/০৬/২০২০ তারিখের সভার রেজুলেশনের ৪নং সুচিতে নলকুপ বসানো ও টাকা লোপাট বিষয়ে আলোচনা হয়। সিডিউল বর্হিভূত কিন্তু টেন্ডার আইটেমভুক্ত পানির ট্যাংক, সেপ্টিট্যাংক, গার্ডারভীম, বালি ফিলিং, ইটের গাথুনি চুড়ান্ত বিলের সাথে যুক্ত করা হয়েছে মর্মে নির্মাণ উপ-কমিটির ১৯/৪/২১ তারিখের সভার সিদ্ধান্তে উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত কাজ বাবদ নির্মান কমিটির সুপারিশ ব্যতীত পৃথক বিলের মাধ্যমে কার্যকরী কমিটি প্রায় ২৩ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধ করেছে। ফলে একই বিলের টাকা দুইবার পরিশোধ দেখিয়ে কমিটির তৎকালীন সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ২৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। যা তৎকালিন ভবন নির্মান উপ-কমিটির সদস্য জনাব মনিরুল ইসলাম আকনের কাছে বিষয়টি জানতে পারবেন। জি৯+ ভবনের আর্কিটেক্ট থ্রি-ডি ডিজাইন, স্টাকচারাল প্লান ও ডিজাইনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্ণীতির মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ করেছে তানু গং। যা তৎকালিন নথিতে দৃশ্যমান।
জি৯+ ভবনের বেইজমেন্ট পাইল তৎকালিন সাধারন সভার সিদ্ধান্ত ও প্লান অনুযায়ি হয়নি এবং খরচ অনেক বেশি হলেও কাজের মান খারাপ হয়েছে। নিম্নমানের রড়, সিমেন্ট, পাথর ও নির্মান সামগ্রি ব্যবহার করে সেখান থেকে তানু ও কুদ্দুস গং সমিতির লক্ষ লক্ষ টাকা অত্মসাৎ করেছে। যা তৎকালিন নথিতে দৃশ্যমান। জি৯+ ভবনের গ্রান্ড ফ্লোর থেকে ৯ম তলা পর্যন্ত নির্মানের ক্ষেত্রে বার্ষিক সাধারন সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অবৈধ সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে নিজের পছন্দের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে ব্যাপক অনিয়ম করেছে কুদ্দুস গং।
উক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের সাথে যে পে-অর্ডার দাখিল করেছিল তা ফেরত দিয়ে দেয় তৎকালিন ব্যাবস্থাপনা কমিটি। পরবর্তীতে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় তাদেকে ডেকে এনে অবৈধ ভাবে তাদের সাথে কাজের চুক্তি করা হয়। উক্ত চুক্তি পত্রটি আজ পর্যন্ত অজানা কারনে অদৃশ্য। ২০/১০/২০১৯ তারিখ সভায় উপস্থাপিত সেপ্টেম্বর’১৯ মাসিক খরচ হিসাবে নতুন ভবন নির্মান ব্যয় পাঁচ ভাউচারের মাধ্যমে ৫৯১৮৮০/- টাকা দেখানো হয়।ভাউচারগুলো নিয়ে কার্যকরি কমিটির সভায় ব্যাপক বাকবিতান্ডা হয় এবং ভাউচারগুলো অনুমোদন না দিয়ে এজিএম এ উপস্থাপন করার সুপারিশ করা হয়।
কিন্তু (৮৮তম) এজিএম এ তার অনুমোদন না নিয়েই বেআইনি ভাবে টাকাগুলো সমিতি থেকে তুলে আত্মসাৎ করে কুদ্দুস গং। ২৭/০১/২০২০ তারিখে সভায় ডিসেম্বর মাসের জমা খরচ হিসেবে নতুন ভবন নির্মান ব্যয় দেখানো হয় ৭০ লক্ষ টাকা। যার কোন সঠিক হিসাব বা বিল অনুমোদন না করেই টাকা নিয়ে গেছে কুদ্দুস গং। সমিতিতে লিফ্ট ও সাব ষ্টেশন বসানোর জন্য একটি ক্রয় কমিটি করা হলেও তাদের সুপারিশ না মেনে নিজের পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে নিন্মমানের লিফ্ট ও সাব-ষ্টেশন কিনে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে তানু গং। ২০২৪ সালের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় দেখানো হয়।
যে ব্যয়ের বড় একটা অংশ ছিল অপ্রাসঙ্গিক ও ভুয়া। যা তৎকালিন বিল ভাউচারে দৃশ্যমান। এসব অপ্রাসঙ্গিক ও ভূয়া খরচের কারনে সমিতির সাধারন সদস্যরা প্রতিবছর প্রকৃত মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া ভাড়াটিয়াদের (বেলভিউ ও ভারগো) কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে তাদের প্রায়শই ৩/৪ মাসের ভাড়া বকেয়া রাখে তানু-কুদ্দুস গং। যা নথি দৃষ্টে দৃশ্যমান। মার্চ’২০ এর জমা খরচ হিসাবের ভবন র্নিমানে অতিরিক্ত ব্যয় (টেন্ডারের বাহিরে) দেখান হয় -১০,৮২,৮৫০ টাকা।
যা নির্মান উপ-কমিটি এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির বিনা অনুমোতিতে পোদ্দার কনষ্ট্রাকশন কে ১০,৩৩,০০০/-টাকা পরিশোধের মাধ্যমে ব্যাপক টাকা উৎকোচ গ্রহন করে কুদ্দুস গং। ১৮/৩/২০ তারিখে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার রেজুলেশনে যার প্রমান পাওয়া যায়। এর মধ্যে কয়েকটি দাখিলকৃত ভাউচারে নির্মান কমিটিরও অনুমোদন ছিলনা। যা তৎকালীন নির্মান উপ-কমিটির সাথে আলোচনা করলে জানতে পারবেন। বিলগুলো হল মাটি সরানোর বিল-৬,১০,৪৮০/-, অতিরিক্ত কাজের বিল-১,২৮,৭০০/-, অতিরিক্ত ফলক উন্মোচন ও পাইপ স্থাপন-১,৯১,৩৫০/-, গাইড ওয়াল সহ মোট ১০,৩৩,০০০/- টাকা ববস্থাপনা কমিটির অগোচরে পরিশোধ করা হয়।
যার বিরুদ্ধে ২৭/৬/২০ তারিখের বিবিধ আলোচ্য সুচিতে এনে ঠিকাদারের কাছ থেকে ফেরত এনে সমিতির হিসাবে অর্šÍভুক্তি করার সিদ্ধান্ত হয় যা পরবর্তীতে আর বাস্তবায়ন হয়নি। যা বিগত ১৮/২/২০, ১৩/৬/২০, ২৭/৬/২০, ১১/৭/২০ তারিখের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় রেজুলেশনে দৃশ্যমান আছে। এছাড়াও তৎকালিন সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির বিনা অনুমোতিতে সমিতির ক্যাশ থেকে সভাপাতি ও সম্পাদক নিজস্ব ক্ষমতায় নির্মান কমিটির আহবায়ককে প্রায় ৪,৪০,০০০/-টাকা কোন প্রমান ছাড়া প্রদান করে।
যা তৎকালিন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদেরও জানা আছে। যার প্রমান সমিতির তৎকাকলিন ক্যাশ খাতায় হস্তমজুদে দৃশ্যমান। বিষয়টি রেজুলেশনে আনতে বলা হলেও তা আনা হয়নি। ভবন নির্মানের ননটেন্ডার আইটেম বিল হিসাবে ঠিকাদার ৩৫,০০,০০০/-, ১৫,৬৫,০০০/-, ১,৯২,৯৬০/-টাকা বিল দাখিল করে। যা নির্মান উপ-কমিটি ও প্রকৌশলীর সুপারিশ বা পাশ করা ছাড়াই ব্যাপক টাকা উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে পরিশোধ করে কুদ্দুছ গং। যা ১৭/০৯/২০ তারিখের রেজুলেশনে দৃশ্যমান। ০৪/০৩/২০ তারিখের জি৯+ ভবনের নিচ তলার ভাড়টিয়া ভারগো রিটেলর এর সাথে চুক্তি এর সম্পাদন হয়। সেই চুক্তিপত্র অনুসারে বেশ কিছু কাজে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হয় যা তৎকালিন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার রেজুলেশনে উল্লেখ আছে।
এছাড়া ২৬/৪/২১ তারিখের সভায় আনিত ভারগোর সামনের ৬১,৫৪০/-টাকা টাইলস বসানোর বিল, গ্লাসের দরজা ৫৮,৫৮৫/-টাকা মুল্যের দুইটি গেট লাগানের বিল করা হলেও তার বেশির ভাগই ভুয়া। ব্যবস্থাপনা কমিটি ও বার্ষিক সাধারন সভায় খাত অনুসারে এগুলোর কোন অনুমোদন হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা সিকিউরিটি মানির শেষ কিস্তির দশ লাখ টাকা নির্মান উপ-কমিটি ও ব্যাবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই উৎকোচের মাধ্যমে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ফেরৎ দিয়ে দেয় তানু গং। মোটা অঙ্কের টাকা উৎকোচ গ্রহন করলেও তার কাছে মাত্র এক লক্ষ টাকা আছে বলে জানায় তানু।
জি ৯+ ভবনের নিচের ২টি ফ্লোর ভাড়া দেওয়া গেলেও বাকি ফ্লোরগুলো এখনো ভাড়া দেয়নি এই তানু-কুদ্দুস গং। জানা যায়, স্বৈরাচারের ওই দোষরের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে তাদেরকে ভাড়া দেয়ার জন্য ব্যস্ত তানু-কুদ্দুস গং। এই কারনে কোন ভাড়াটিয়া আসলে তাদের তাড়িয়ে দেয় এই তানু-কুদ্দুস। এমন কি ভবন ভাড়ার জন্য আজ পর্যন্ত কোন টু-লেট পর্যন্ত লাগায়নি এই তানু-কুদ্দুস গং। যার ফলে সমিতি গত ৬ বছরে কয়েক কোটি টাকা লোকসান করেছে। ফলে সমবায় বিভাগ সিডিএফ থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি বড় বঞ্চিত হচ্ছে সমিতির সাধারন সদস্যরা।
প্রতি বছর তারা প্রকৃত মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যার সুষ্ঠ তদন্ত প্রয়োজন। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি দিকে ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় সমিতির এফডিআর করা টাকাগুলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির ব্যাংকে না রেখে সোনালী, রুপালী বা অন্য কোন ১ম শ্রেণীর রাষ্টায়ত্ব ব্যাংকে রাখা হোক। কিন্তু তানু গং সেই সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির ব্যাংকে এফডিআরগুলো রাখা হয়েছে। ফলে ঝুকির মুখে পড়ছে গ্রাহকের কষ্টের আমানত। ওয়ান ব্যাংকে সমিতির টাকা এফডিআর করার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যের সন্তানদের চাকরি নেয়ার মতো ঘটনাও এখানে আছে। ৮৮, ৮৯ এবং ৯০ তম বার্ষিক সাধারন সভায় সদস্য উপস্থিতি কম থাকায় সভার কোরাম পুর্ন হয়নি। তখন অবৈধ ভাবে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে সভার কোরাম পুর্ন দেখায় কুদ্দুস গং। বার্ষিক সাধারন সভায় উপস্থিতি রেজিষ্ট্রেশন খাতায় যার প্রমান রয়েছে।
সদস্যদের পুর্বের স্বাক্ষর এর সাথে এজিএম এর স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখলে সব কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে। যা সমবায় সমিতির আইন ও বিধি পরিপন্থি। সমবায় সমিতির আইন ও বিধি কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে উপ-আইন সংশোধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম নির্দিধায় করে যাচ্ছে তানু-কুদ্দসু গং। এদিকে সমবায় বিভাগ থেকে প্রতি বছর দৃশ্যমান যে অডিট হয় তাতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সভার রেজুলেসন পড়ে অডিট কার্য সম্পাদন হয়না। মাত্র একজন অডিট অফিসার এর মাধ্যমে সভাপতি কর্তৃক দাখিলকৃত জমা খরচ হিসাব ভাউচারের যাচাইয়ের মাধ্যমে অডিটগুলো সম্পাদন করা হয়।
সমবায় বিভাগ থেকে আজ পর্যন্ত কখনোই কোন অডিট টিম গঠন হয়নি। বলা যায়, তানু-কুদ্দুস বাহিনী বর্তমানে সমিতিটিকে লুটেপুটে খাওয়ার মহোৎসবে মেতেছে। ফলে সাধারন সদস্যরা সমিতি থেকে প্রতিবছর মুনাফা কম পাচ্ছে এবং লাভের গুড় চলে যাচ্ছে তানু-কুদ্দুসের পকেটে। সমিতির সকল সদস্যদের ভাগ্য উন্নয়ন ও তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য দূর্ণীতি দমন কমিশন কর্তৃক সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বরিশাল অফিসার্স সমবায় সমিতি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক এর কোটি কোটি টাকার দূর্নীতি, কৌশলগত ভাবে সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়ম এর সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে সমবায়ের মূল-মন্ত্র প্রতিফলিত করার জন্য জোর প্রস্তাব ও অপরাধীদের শাস্তি ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়েছে সমিতির সাধারন সদস্যরা। এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি গোলাম কাদের তনু বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো সঠিক নয়। তবে প্রমাণ তার বক্তব্যের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।
উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।




























