পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রথমে ধর্ষণ অতঃপর জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিকাশ সিকদার নামের এক হোমিও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শিল্পী রানি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা সুত্রে জানা যায় মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের উপেন বড়ির ছেলে উজ্জল বড়ি জিবিকার তাগিদে প্রবাসে যান, প্রবাসে গিয়ে অনেক টাকার ঋনের বোঝা হলে উজ্জল এর স্ত্রী শিল্পী রানি ও পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বাড়িতে জিয়ের কাজ শুরু করেন।
সেই সুবাদে ঘটনার দিন ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে পাশ্ববর্তী বিমল শিকদারের ছেলে বিকাশ সিকদার তার স্ত্রী বাসায় না থাকায় ভাত রান্না করার জন্য প্রতিবেশী ছোট ভাই প্রবাসী উজ্জ্বল এর স্ত্রী শিল্পী রানীকে বাসায় ডেকে নেয়, এক পর্যায়ে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে বিকাশ সিকদার পিছন থেকে ধরে জোরপূর্বক ঘরের মেঝেতে ফেলে তাকে ধর্ষণ করেন।
শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত নন বিভিন্ন সময় আপত্তিকর এসএমএস দিয়েও বিরক্ত করেন। এক দিকে অসহায় অন্য দিকে লোক লজ্জার ভয়ে তখন মুখ খোলেননি শিল্পী রানি, কিন্তু দুই মাস পরে ভুক্তভোগী নারী তার পেটে বাচ্চা এসেছে বলে অনুমান করতে পারলে বিষয়টি তার ননদ মনিকা রানিকে জানায়।
একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকাশ সিকদার ওষুধ খাইয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় শিল্পী রানী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য গত ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে মঠবাড়িয়া সৌদি প্রবাসী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার ডি এন্ড সি অপারেশন করা হয়।
এরপর সুস্থ হয়ে ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা করতে যান ভুক্তভোগী শিল্পী রানী। এ বিষয়ে জানতে পারলে বিকাশ সিকদার তার দলীয় লোকজন দিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিভিন্ন চাপ দিয়ে মামলা করতে বাধা প্রদান করেন এবং শালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ফয়সালা করার চেষ্টা চালান, কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবার শালিশ বৈঠক না মেনে ২৮ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে সুষ্ঠু বিচার এর দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত বিকাশ সিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং ধর্ষণের বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।































