নওগাঁর মান্দায় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে মারপিটের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে ইটভাটা মালিক আলহাজ্ব মকছেদ আলীর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত তালেব আলীর ছেলে আতিকুর রহমান মিঠু এবং গোবিন্দপুর গ্রামের মফিজের ছেলে সোহেল রানার দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
শনিবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমি মাপজোক ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
আলহাজ্ব মকছেদ আলী দাবি করেন, শ্রীরামপুর মৌজার ৬১২, ৬১৩ ও ৬১৪ নম্বর দাগের জমি তিনি কবলা দলিলমূলে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। শনিবার সকালে আতিকুর রহমান মিঠু, সোহেল রানা ও আজিজার নামের এক ব্যক্তি তার জমি জবরদখলের চেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিলে তারা তাকে ও কাজল নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করেন এবং হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মকছেদ আলী আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে তাকে ও তার পরিবারকে ফাঁসাতে আজিজারকে তুলে এনে ইটভাটায় মারধর করা হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
অপরদিকে সোহেল রানা বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি প্রথমে তার বাবা ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তীতে মকছেদ আলী ওই জমি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। শনিবার তারা জমি মাপজোক করতে গেলে মকছেদ আলীর লোকজন তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোহেল রানা আরও বলেন, রোববার রাতে আজিজারকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
এ বিষয়ে আজিজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মকছেদ আলীর সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা বা দ্বন্দ্ব নেই। সোহেল রানার পক্ষে সালিশ করতে যাওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


































