সময়ের বার্তা ডেস্ক: ঋণের নামে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে- এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদেশে নামে-বেনামে থাকা সম্পদ উদ্ধার করে ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে ব্যাংকগুলো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) ওই ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করে এ নির্দেশনা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জানানো হয়, ‘নো উইন, নো পে’ নীতিতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের এই কার্যক্রমে কোনো ব্যাংককে অগ্রিম অর্থ দিতে হবে না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে সম্পদ অনুসন্ধান করবে।
উদ্ধার হওয়া সম্পদের একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য অনুসারে, ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে- এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিদেশে সম্পদ থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠকে যে আটটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে বলা হয়, সেগুলো হলো- গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রোল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেলি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় এই ৪২টি প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এসব দেশ থেকে পাচারের অর্থ-সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে গেছে। এ অর্থ ফেরত আনতে ব্যাংকগুলো কাজ করছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, পাচার করা অর্থ কতটুকু ফেরত আনা যাবে, সেটি পরের বিষয়। তবে যারা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত, তারা যেন শাস্তি পায়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য বিদেশে তাদের থাকা অর্থ জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে এ কাজে বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে যেসব ঋণগ্রহীতা টাকা পাচার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন এবং এর আর্থিক পরিমাণ শনাক্তের কাজ করবে। সম্পদ চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথমে তা জব্দ করার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে সেসব সম্পদ বিক্রয় বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।


































