সময়ের বার্তা ডেস্কঃ প্রতিষ্ঠার ২১ বছরের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কমিশনশূন্য রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন কমিশন গঠন হয়নি। ফলে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে একদিকে দুর্নীতিবাজরা সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায়বিচার থেকে।
চলতি বছরের ৩ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগ করে। এরপর থেকে আজ (৪ আগস্ট) পর্যন্ত নতুন কমিশন গঠন করা সম্ভব হয়নি। দুদক আইনে শূন্য পদ ৩০ দিনের মধ্যে পূরণের বিধান থাকলেও সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।
এ সময়ে প্রায় ১৩ হাজার দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। কমিশন না থাকায় নতুন অনুসন্ধান, মামলা অনুমোদন, সম্পদ জব্দ, আসামি গ্রেপ্তার, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কার্যত বন্ধ রয়েছে। অনেক তদন্তের প্রতিবেদন প্রস্তুত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাবে সেগুলো ঝুলে আছে।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মইদুল ইসলাম বলেন, কমিশন পদত্যাগের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকার তা করতে পারেনি। তাঁর মতে, পাঁচ মাস ধরে দেশের প্রধান দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে কার্যত অচল করে রাখা আইনের লঙ্ঘন।
নবনিযুক্ত দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, সার্চ কমিটির কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগিরই নতুন কমিশন গঠন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুদকের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দক্ষ, সৎ এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগ দিতে হবে।
কারা আসতে পারেন নতুন কমিশনে?
সার্চ কমিটির কার্যক্রমে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে সাবেক বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিশেষ জজ মোতাহার হোসেন। এছাড়া সাবেক বিচারপতি আসাদুজ্জামান, ড. আবুল হোসেন খন্দকার, রুহুল কুদ্দুস, সাবেক মুখ্য সচিব এ এস এম আব্দুল হালিম, সাবেক সচিব বাকী বিল্লাহ, আবু বকর মো. শাহজাহান, ড. নাসিমুল গনি, আবদুস সাত্তারসহ আরও কয়েকজনের নাম ঘুরে ফিরে আসছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাষ্ট্রপতি।
সার্চ কমিটির অগ্রগতি
গত ২২ জুন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে তিন শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।
এখন প্রশ্ন একটাই- দীর্ঘ পাঁচ মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে কবে নতুন নেতৃত্ব পাবে দুদক, আর সেই নেতৃত্ব দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে জনগণের আস্থা কতটা ফিরিয়ে আনতে পারবে।


































