নওগাঁর মান্দা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন মডেল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। দীর্ঘ তিন দশক ধরে প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৯৪ সাল থেকে এখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে আসছেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছাঃ নাহিদ সুলতানা। বিশেষ করে গ্রামীণ প্রসূতি সেবায় তাঁর অবদান স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত।
বর্তমান সময়ে প্রসূতি সেবায় নানা জটিলতার কারণে অস্ত্রোপচার বা সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রবণতা বাড়লেও নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাহিদ সুলতানা। তাঁর দাবি, দীর্ঘ কর্মজীবনে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিনি একাই ৩৫ হাজার সফল নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করেছেন।
গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদে সন্তান প্রসবে তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় সন্তুষ্ট স্থানীয়রা। প্রসূতি সেবায় দৃষ্টান্তমূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় পর্যায়েও একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
নাহিদ সুলতানার সেবার সুনাম শুধু মান্দা উপজেলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলা থেকেও গর্ভবতী নারীরা তাঁর ওপর আস্থা রেখে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন মডেল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ছুটে আসেন।
সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য, এখানে প্রসূতি সেবার জন্য কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। দিন কিংবা গভীর রাত—জরুরি প্রয়োজনে প্রসূতি মায়েদের পাশে দাঁড়ান নাহিদ সুলতানা।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাহবুব-উল আলম বলেন, “তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন মডেল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন নাহিদ সুলতানা।
আধুনিক সময়ে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে তিনি যে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ছোটখাটো অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে সাধারণ মানুষকে আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।”
দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নাহিদ সুলতানা বলেন, “যতদিন বেঁচে থাকব এবং সুস্থ থাকব, ততদিন নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করে যেতে চাই। অসহায় মায়েদের মুখে হাসি ফোটানোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” প্রান্তিক মানুষের জন্য দীর্ঘ ৩২ বছরের নিরলস সেবা, হাজারো মায়ের নিরাপদ সন্তান প্রসব এবং নরমাল ডেলিভারিতে তাঁর ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।


































