আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার মধ্যেই তেহরান জানিয়েছে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে না। এ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান সফর করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
বুধবার (১২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রধান মোহসেন রেজাই তেহরানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, প্রণালিটি সম্পূর্ণরূপে খুলে দিতে হলে ওয়াশিংটনকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার পাশাপাশি বিদেশে আটক ইরানি তহবিল ছাড় করতে হবে।
ইরানি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন করে ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি একই অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে তিনি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং গাজা ও লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির দাবি জানান।
রেজাই বলেন, ইরানের বার্তা স্পষ্ট- যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও অবরোধ বন্ধ না করছে, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দিচ্ছে না এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হচ্ছে না, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না। সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজের স্টিয়ারিং গিয়ার অচল করতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ লঙ্ঘন বন্ধের জন্য দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি ছোট পণ্যবাহী জাহাজে সন্দেহভাজন হুথি হামলায় চার নাবিক নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথিবিরোধী একটি সামরিক গোষ্ঠীর দুই ইয়েমেনি উদ্ধারকর্মীও এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
মিশরীয় মালিকানাধীন তিহামাহ জাহাজে এই হামলা ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর নৌযানের ওপর চালানো প্রথম হামলা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে হুথি-পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সাবা জানিয়েছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। তবে জাহাজটির নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ ঘটনায় সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
































