প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যমানের কথিত কোবরা সাপের বিষ, বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিবিধ সরঞ্জামাদিসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- এনামুল হক (৫৪), সফিকুল ইসলাম (৫৪), এরশাদ আলী (৩৬) ও সৈয়্যদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ (৩৪)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণা ও সন্ত্রাসীর কাজে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেটকার জব্দ এবং ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৬ রাউন্ড এ্যামোনেশন, ১টি খেলনা পিস্তল, ১০ কেজি নকল সাপের বিষ, ১টি এ্যালবাম, ২টি সিডি, নগদ ৩৬ হাজার ২৩৫ টাকা ও ভারতীয় ৩৬০ রুপি উদ্ধার করা হয়।
চক্রটি কুখ্যাত আন্তর্জাতিক চোরাকারবারির সাথে জড়িত বলে দাবি করেছে র্যাব।
বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এম. জে. সোহেল।
তিনি জানান, প্রতারক চক্রটি সাপের বিষ রাখতে বিশেষ ধরণের কাচের কৌটা ব্যবহার করতো। এসব কাচের কৌটার গায়ে লেখা থাকে বিভিন্ন দেশের নাম ও কোড নম্বর। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে ওই বিষ সংগ্রহ করে পরবর্তীতে বিষগুলো বাহিরের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির নিকট বিক্রিসহ পাশের দেশে প্রতারণা ও চোরাচালানের মাধ্যমে পাচার করে লোক ঠকিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিগুলো এসব সাপের বিষ লাখ লাখ টাকা দিয়ে কেনে। কারণ বৈধভাবে দেশের বাইরে থেকে এসব সাপের বিষ আনতে হলে আরও কয়েকগুণ বেশি টাকা গুনতে হয়। কম দামের কারণে ক্রেতারা সহজে প্রতারকদের ফাঁদে পা দেয়।
তিনি আরও জানান, চক্রটি ক্রেতাদেরকে বলে যে, তাদের কাছে একটি বিদেশি পিস্তল আছে, যা দিয়ে সাপের বিষের কৌটায় ফায়ার করলে কৌটাটি ফাটবে না। আর বিষ নকল হলে কৌটাটি ফেটে যাবে। তারা আরও বলে অরিজিনাল বিষ স্বচ্ছ কাচের জারে রাখার পর এর ওপর লেজার লাইট ধরলে একপাশ থেকে অন্য পাশে যাবে না। এছাড়াও তারা ক্রেতাদেরকে তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন বই, এ্যালবাম ও সিডি দেখায়। যেগুলোতে বিষ কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে এবং কিভাবে ব্যবহার করতে হবে সেসব লেখা থাকে। তারা এগুলোকে মূল্যবান সাপের বিষ বলে গোপনে প্রচারণা চালায়। র্যাব-১০ কথিত সাপের বিষগুলো উদ্ধার করে র্যাব সদর দফতর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় যে, সেই কাচের বোতলে রক্ষিত সাপের বিষগুলো নকল যাতে সাপের বিষের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।
গ্রেফতাররা জিজ্ঞসাবাদে র্যাবকে জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কথিত নকল সাপের বিষ সংগ্রহ করতেন। এরপর হাতিরঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণের কাছে প্রতারণা করে বিক্রয় করতেন। এভাবে চক্রটি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
































