নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এর একমাত্র ম্যানুয়াল অ্যাফেরেসিস মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় প্লাটিলেটের জন্য হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু, ক্যানসার, রক্তের জটিল রোগ ও কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের জন্য জরুরি প্লাটিলেট না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অ্যাফেরেসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন সুস্থ দাতার রক্ত থেকে শুধু প্লাটিলেট পৃথক করে সংগ্রহ করা হয় এবং বাকি উপাদান দাতার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে কিংবা ক্যানসার ও রক্তজনিত বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে মেশিনটি অচল হয়ে পড়ায় রোগীদের এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল অ্যাফেরেসিস সেবার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যেখানে শেবাচিমে ম্যানুয়াল মেশিনে প্লাটিলেট সংগ্রহে খরচ হতো মাত্র ৩৫০ টাকা, সেখানে ডিজিটাল মেশিনে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ রোগীপ্রতি অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে ১৬ হাজার ৬৫০ টাকা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মেশিনটি অচল থাকায় হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় প্লাটিলেট সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো প্লাটিলেট না পাওয়ার আশঙ্কায় রোগীদের জীবনঝুঁকিও বাড়ছে।
রোগীর স্বজনরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি হাসপাতালে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র দীর্ঘদিন অচল থাকলেও তা দ্রুত সচল করার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তারা জরুরি ভিত্তিতে মেশিনটি মেরামত অথবা বিকল্প অ্যাফেরেসিস মেশিন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালের সেবাগ্রহীতাদের অনেকেই বলছেন, শেবাচিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বিকল্প ব্যবস্থা থাকা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতেও একই ধরনের সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে।































