বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাছের ঘের দখল ও সম্পত্তি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে হামলা, মারধর, নারীকে শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইমরান হাওলাদার নামে এক যুবক আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামে ইমরান হাওলাদারসহ তার দুই ভাই একটি মাছের ঘের ভোগদখল করে আসছেন। ঘেরের জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের পূর্ববিরোধ রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ১৯ নভেম্বর ২০২৬ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইমরান হাওলাদার ও এক সাক্ষী ঘেরের পাড় পরিষ্কার করতে গেলে অভিযুক্ত রুমান হাওলাদার, মিজানুর হাওলাদার, আল আমিন হাওলাদার, আরাফাত হাওলাদার ও রিনা বেগম সেখানে গিয়ে কাজে বাধা দেন। এ সময় তারা গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইমরান ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় রুমান হাওলাদার লাঠি দিয়ে ইমরানের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হন। তাদের চিৎকার শুনে পলি বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এ সময় পলি বেগমের গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন ও কানে থাকা একজোড়া স্বর্ণের দুল নিয়ে যায় অভিযুক্তদের একজন। চেইন ও দুলের আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ১ লাখ ১০ হাজার ও ৮০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় ইমরান হাওলাদার ও পলি বেগমকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ইমরান হাওলাদার এ ঘটনায় তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশি তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।































