ঝালকাঠির নলছিটিতে জমি নিয়ে বিরোধ, অবৈধ দখলের অভিযোগ ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী। তিনি নলছিটি উপজেলার নাচন মহল গ্রামের দুলাল চন্দ্র চ্যাটার্জীর পুত্র। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকালে ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ক্লাব হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, তার মালিকানাধীন সম্পত্তি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নলছিটি থানাধীন নাচন মহল মৌজার এসএ ২৩০ নম্বর খতিয়ানের ৪২১, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৭৩ ও ৫৭০ নম্বর দাগে মোট ৩ একর ৭ শতক জমি তার পারিবারিক মালিকানাধীন সম্পত্তি। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি গেজেট ভুক্ত হয়। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির প্রক্রিয়ায় ২০১৪ সালে ওই সম্পত্তি অবমুক্ত করা হয় এবং এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে বিএস জরিপের সময় সম্পত্তির একটি অংশ ১নং খতিয়ানে এবং অবশিষ্ট ১ একর ৪৬ শতক জমি ১/১ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হয়। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির পর প্রচলিত আইন ও রেকর্ডের ধারাবাহিকতায় ওই ১ একর ৪৬ শতক সম্পত্তি তার নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিনি ওই জমির খাজনাও পরিশোধ করেছেন।
উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, পরবর্তীতে বিএস ১/১ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ২৮৯ ও ৩০৫ নম্বর দাগের মোট ৮ শতক জমি তিনি বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে আয়নাল হক তালুকদার নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। তার দাবি, আয়নাল হক তালুকদার কোনো জোরপূর্বক বা বেআইনি উপায়ে জমিটি দখল করতে যাননি; বরং রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে জমিটি ক্রয় করেছেন। ক্রেতা আয়নাল হক তালুকদার ৩০৫ নম্বর দাগের জমিতে দখল নিতে গেলে সেখানে একটি পুরনো ও পরিত্যক্ত ঘর দেখতে পান। বহু বছর আগে সন্তোষ বিশ্বাস নামে একজন ব্যক্তি ওই ঘরটি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করতেন। পরবর্তীতে তিনি ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে ভারতে চলে যান বলে তার দাবি। ওই সময় সম্পত্তিটি অর্পিত সম্পত্তির গেজেটভুক্ত থাকায় সন্তোষ বিশ্বাস নিজের নামে বিএস রেকর্ড করাতে পারেননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আনুমানিক তিন বছর আগে সন্তোষ বিশ্বাসের ভাই সুনীল বিশ্বাস ওরফে কুট্টি বিশ্বাস এসে ওই পরিত্যক্ত ঘরে তালা দিয়ে সেখানে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৮৪ সালে সাহেব আলী তালুকদার নামে একজন ব্যক্তি কথিত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে তাকে ওই জমি দিয়েছিলেন।
তবে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জীর দাবি, ওই দলিল বা মালিকানার স্বপক্ষে অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার দাবির স্বপক্ষে কাগজপত্র থানায় উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত হননি বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, থানায় বিষয়টি নিয়ে মামলা করার কথা বলা হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা হয়নি।
উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, গত ২১ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আয়নাল হক তালুকদার ওই পরিত্যক্ত ঘরে প্রবেশ করে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। তার দাবি, বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে প্রবেশ করে সেটি ব্যবহারযোগ্য করার উদ্দেশ্যেই তিনি ঘরটি পরিষ্কার করছিলেন।
তবে প্রতিপক্ষ গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রকৃত মালিকানা, সরকারি রেকর্ড, অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির গেজেট, বিএস রেকর্ড এবং বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না করে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বৈধভাবে জমি ক্রয়কারী একজন ব্যক্তিকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই ঘটনাকে আমরা কোনোভাবেই হিন্দু-মুসলিম বিরোধ হিসেবে দেখতে চাই না। এ ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত সব দলিল ও সরকারি রেকর্ড নিরপেক্ষ ভাবে যাচাইয়ের দাবি জানান।





























