‘অমর একুশের গান’-এর সুরকার, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বরিশালের কৃতিসন্তান আলতাফ মাহমুদের অন্তর্ধান দিবস উপলক্ষে বরিশালে স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোডের লুকাস কম্পাউন্ডে শব্দাবলী মিলনায়তনে শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি সংসদের আয়োজনে এ স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বরিশালের সুধীজন, লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের উপস্থিতিতে শহীদ আলতাফ মাহমুদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
১৯৭১ সালের ৩০শে আগস্ট রাতে রাজাকার ও আলবদর সদস্যদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা আলতাফ মাহমুদকে তাঁর ঢাকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান ও আত্মত্যাগকে স্মরণ এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যেই এবছরে প্রথম এ আয়োজন করা হয়।
শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি সংসদের আহবায়ক কবি ও লেখক অধ্যাপিকা বেগম ফয়জুন নাহার শেলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক অরূপ হালদার, বি.এম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইমানুল হাকিম এবং শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি ফারুক হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও নাট্যকার অনিমেষ সাহা লিটু। শহীদ আলতাফ মাহমুদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও স্মৃতি সংসদের কার্যক্রম তুলে ধরেন সংগঠনের সমন্বয়কারী মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ( টিআইবি) বরিশালের সভাপতি অধ্যাপিকা টুনু রাণী কর্মকার, গণফোরামের সংগঠক এ্যাড. হিরন কুমার দাস মিঠু, বরিশাল সমাজসেবা আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজ, সাংস্কৃতিক সংগঠক আবুল খায়ের সবুজ, কবিতা পরিষদ বরিশালের সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী বিশ্বাস, ক্যাবের উপদেষ্টা ও পরিবেশ কর্মী অ্যাড. সুভাষ দাশ নিতাই, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার বাহাউদ্দিন গোলাপ, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শিশিরসহ বরিশালের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন।
আলোচনা পর্বে লেখক ও সাংবাদিক অরূপ হালদার বলেন, “আলতাফ মাহমুদের সঙ্গে আমার একটি খুব সুন্দর সম্পর্ক ছিল। তাঁকে গুম করার কিছুদিন আগেও তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। সারাক্ষণ তিনি দেশ নিয়ে ভাবতেন। বরিশালের সন্তান হওয়ার পরও তাঁর জন্য আমরা তেমন কিছু করতে পারিনি—এটা আমার জন্য এক ধরনের ব্যর্থতা। এই স্মৃতি সংসদের মাধ্যমে তার অমর স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
অধ্যাপক ইমানুল হাকিম বলেন, “আলতাফ মাহমুদ বরিশালের গর্ব। অথচ তাঁর নামে বরিশালে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগ নেই। তাঁর নামে একটি স্কুল থাকলেও বর্তমানে সেটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির। স্কুলটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে শহীদ আলতাফ মাহমুদের জীবন, কর্ম ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”
আলোচনা পর্ব শেষে, শব্দাবলী ও বরিশাল শিশু থিয়েটারের আবৃত্তি বিভাগের শিল্পীরা নাট্যকার অনিমেষ সাহা লিটুর পরিচালনায় আবৃত্তি পরিবেশন করেন। পরে শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি সংসদের অন্যতম সদস্য মিন্টু কুমার করের লেখা ও মীর সাব্বির হোসেনের সুর করা গান এবং শহীদ আলতাফ মাহমুদের সুরারোপিত গান পরিবেশন করেন স্বরলিপি সংগীত বিদ্যালয়ের শিল্পীরা। শহীদ আলতাফ মাহমুদের স্মৃতিচারণ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আবেগঘন পরিবেশে শেষ হয় স্মরণানুষ্ঠানটি।
































