বরিশাল অফিস: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বরিশাল সদর উপজেলার কৃষকেরা। বিদ্যুৎ না থাকায় সঠিক ভাবে সেচযন্ত্র চালাতে পারছেন না অনেক কৃষক। ফলে ব্যাহত হচ্ছে জমিতে সেচ দেওয়ার কাজ, বাড়ছে উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ।
কৃষক মোসাক খাঁ জানান, কৃষিকাজে সেচের জন্য বিদ্যুতের ওপর আমাদের নির্ভরতা রয়েছে অনেক বেশি। কিন্তু দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সময়মতো সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন কৃষকের সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সেচযন্ত্র চালাতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে বাড়ছে খরচ।
কৃষক মকছেদ শরিফ বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো সেচ দিতে পারছি না। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্প বন্ধ থাকে, ফলে জমিতে প্রয়োজনীয় পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে ধানের ফলন নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। কৃষিকাজের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে আমাদের মতো কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জমিতে সেচ দিতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক সময় সেচের নির্ধারিত সময়ও পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত থাকলে কৃষিকাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়ে যেতে পারে।
বরিশালে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতির কারণে লোডশেডিংয়ের বিষয়টি এর আগেও আলোচনায় এসেছে। বিদ্যুৎ বিতরণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় রোটেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ দিতে হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, কৃষির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে লোডশেডিং কমিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


































