পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গোলাম হোসাইন বাচ্চু (৪৭) নামের এক পরিবার পরিকল্পনা অফিসের গুদাম রক্ষক এর বসতঘর তুলতে বাঁধা, বাড়ির সামনের ফলজ গাছ কর্তন সহ একাধিক ক্ষয়ক্ষতি করার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে। এমনকি ভুক্তভোগী গোলাম হোসাইন বাচ্চুর ভোগ দখলীয় সম্পত্তিতে প্রতিপক্ষরা বসতঘর তুলে বসবাস করে আসছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এতে প্রায় ১৮ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগী গোলাম হোসাইন উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোঃ আবু জাফর এর ছেলে। বিষয়টি নিয়ে গোলাম হোসাইন বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মঠবাড়িয়া আদালতে গত ২১/০৮/২০২৪ ইং তারিখ একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে ভুক্তভোগীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্য নিজেরা গাছপালা কর্তন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বীকার করে উল্টো ভুক্তভোগীর আপন মেজো চাচা মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে আঃ রশিদ হাং মঠবাড়িয়া আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞ আদালতের বিচারক মামলা ২ টি আমলে নিয়ে মঠবাড়িয়া থানার ওসিকে তদন্তের মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। মঠবাড়িয়া থানার তৎকালীন ওসির নির্দেশে কর্মরত উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) ওয়ালিদ হোসেন মামলা ২ টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে প্রতিপক্ষের কাছে প্রভাবিত হয়ে গোলাম হোসাইন বাচ্চু সহ মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত ভুক্তভোগীর মামলাটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আপোষ মিমাংসার জন্য নির্দেশ দেন। এদিকে ঘটনার দিন থেকেই স্থানীয় ইউপি সদস্য সোবাহান হাওলাদার উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসার কথা বলে আসলেও আজ অবধি কোন ফয়সালার আশ্বাস পাননি ভুক্তভোগী গোলাম হোসাইন বাচ্চু। প্রতিপক্ষের দেয়া মামলায় উল্লেখিত ঘটনা ও উল্লেখিত আসামি সবগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন গোলাম হোসাইন বাচ্চু।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কোন উপায়ন্ত না পেয়ে গত ০৭/০১/২০২৬ ইং তারিখ মঠবাড়িয়া থানায় একটি জিডি (জিডি নং- ৩৬৯) করেন। উক্ত জিডি মঠবাড়িয়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) আল মামুন এর কাছে তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রতিপক্ষের দেয়া মিথ্যা মামলার হয়রানির স্বীকার হয়ে ভুক্তভোগী অসহায় হয়ে পড়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে হয়রানি থেকে বাঁচতে ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্যে প্রতিপক্ষ আঃ রশিদ হাওলদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের মাধ্যমে জানান, উভয় পক্ষের মামলা হয়রানি ছাড়া আর কিছুই না।
বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়রা মিমাংসার জন্য একাধিকবার বসেছি এবং অচিরেই একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেন। এবিষয়ে মধ্যস্থকারী স্থানীয় ইউপি সদস্য সোবাহান হাওলাদার জানান, উভয় পক্ষের শালিসগন নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে৷ দ্রুত সময়ের মধ্যে রোয়েদাদ করে উভয় পক্ষের জমিজমার হিসেব ও দখল বুঝিয়ে দেয়া হবে।































