প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।
দেশের প্রতিটি মানুষকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের অংশ হতে হবে। একটি গাছ একটি প্রাণ এই উপলব্ধি থেকেই সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগান। সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর-শরিকল খালের পারে নারিকেল, নিম ও আমড়া গাছের চারা রোপন করে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডধারী উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করে দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারী সদস্যদের প্রত্যেকের হাতে ক্রমান্বয়ে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলার ৭,০০০ পরিবারের নারী সদস্যরা এই কার্ড পাবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে এ জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ”বিএনপির পাশে যতক্ষণ জনগণ থাকবে, ততক্ষণ বিএনপি কোনো বাধা না মেনে দেশের স্বার্থে কাজ করে যাবে।” নারীদের শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক (ফ্রি) করে দিয়েছিলেন। তাকে অনুসরণ করেই বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা ফ্রি করবে। একই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে।”
দীর্ঘ ২২ বছর পর সরকার প্রধান হিসেবে বরিশাল বিভাগে প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকাল ১০ দিকে সড়ক পথে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গৌরনদীতে পৌঁছান তিনি। সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান, বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পরে একটি নারিকেল, নিম ও আমড়া গাছের চারা রোপন করেন। শেষে দোয়া-মোনাজাতে অংশ গ্রহন করেন।
প্রধানমন্ত্রী আগমনকে ঘিরে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় গণজোয়ার আর উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ২২ বছর পর সরকার প্রধান হিসেবে বরিশাল বিভাগে পা রাখায় বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের জেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা থেকে বাটাজোরের উজিরপুর সীমানা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা রূপ নেয় জনসমুদ্রে।
জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে জনগণের আস্থার প্রতীক তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সর্বস্তরের জনতা। এই সফরকে কেন্দ্র করে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছিলো উৎসবের আমেজ।































