কুমিল্লা প্রতিনিধি : একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন রেখে বিয়ে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে কুমিল্লার এক গৃহবধূ বিচার ও আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সোহেল নামের এক ব্যক্তি তার পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক গোপন রেখে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা ধার নেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সোহেলের প্রথম স্ত্রী নাসিমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুম আরাসহ একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে, যা বিয়ের আগে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়, সত্য ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর সোহেলের প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী, তার মা এবং বোন মিলে একাধিকবার ওই গৃহবধূকে মারধর করেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশি হয়রানিরও চেষ্টা করা হয়। তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নিলে পরে স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, সোহেল ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুম আরা একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এবং কয়েক মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এছাড়াও একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে এই সোহেল। এরপর পাওনাদার ও বাড়িওয়ালারা বারবার ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছে গিয়ে তাদের হয়রানি করেন, যদিও অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় তার বিয়ের আগেই তৈরি করা স্বর্ণের কানের দুল ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি স্বামীর কাছ থেকে কোনো ভরণপোষণ পাননি। বরং সোহেল তাকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, সোহেল বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ভাড়া পরিশোধ না করে চলে যান এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আত্মগোপন করেন। অতীতে কুমিল্লার একটি বাস কাউন্টারে চাকরি করার সময়ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। গত ১৮ জুনের পর থেকে সোহেলের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ নেই। কিন্তু এরপরও সোহেলের প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় তার বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করছেন।
ভুক্তভোগী বলেন, আমি একজন অসহায় নারী। বিয়ের পর থেকে স্বামীর কাছ থেকে কোনো ভরণপোষণ পাইনি। প্রতারণা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়ে এখন আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কুমিল্লা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতারণা ও নির্যাতনের বিচার দাবি করেছেন।




































