‘সাগরকন্যা এস.এস.সি ৯৫ অল বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের বিরুদ্ধে পিকনিকের নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার ‘ব্লু ওশান হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ আয়োজিত একটি পিকনিকের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে গ্রুপটির অ্যাডমিন ও একাধিক পরিচালনাকারীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর কুয়াকাটায় অবস্থিত ব্লু ওশান হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ওই পিকনিকের আয়োজন করে গ্রুপটি। আয়োজনের আগে বরিশাল নগরীর নতুন বাজারস্থ হোটেলের অফিসে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন, নার্গিস আক্তার (গ্রুপের অ্যাডমিন ও মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স, মালিবাগ শাখার মার্কেটিং অফিসার) খোকন মোল্লা (পটুয়াখালী সদর পরিবার পরিকল্পনা অফিসের অফিস সহকারী) আল মামুন রুবেল (মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স, মালিবাগ শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার) মো. মনির মল্লিক (যাত্রাবাড়ীর মুদি ব্যবসায়ী), ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (হোটেল পার্টনার ও গ্রুপ সদস্য) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, পিকনিকের হোটেল বুকিং এবং অংশগ্রহণকারীদের উপহারের জন্য ঘড়ি ক্রয়ের দায়িত্ব পালন করবেন গ্রুপের সদস্য ও হোটেল পার্টনার ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
খরচের হিসাব ও প্রতারণার অভিযোগ ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি হোটেল বুকিং সম্পন্ন করেন এবং উপহারের জন্য ৫০ হাজার টাকার ঘড়ি ক্রয় করেন। হোটেলটির প্যাকেজ সিস্টেম অনুযায়ী খাবারসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
পিকনিক শেষে অ্যাডমিন নার্গিস আক্তারসহ উপস্থিত দায়িত্বশীল সদস্যরা নগদ ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দ্রুতই পাঠিয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা কুয়াকাটা ত্যাগ করেন। জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন: যেহেতু আমিও ওই সংগঠনের একজন সদস্য, তাই তাদের ওপর বিশ্বাস রেখে বিদায় দিই।
কিন্তু পরবর্তীতে পাওনা দেড় লাখ টাকা ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উল্টো নানা ধরণের হুমকি দেওয়া শুরু করে। এমনকি টাকা আগেই পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করে।” অভিযোগের বিষয়ে পিকনিক পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মনির মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। তারা পাওনা টাকা আগেই পরিশোধ করে এসেছেন বলে দাবি করেন। একই সুর মিলিয়ে আরেক সদস্য খোকন মোল্লাও অতিরিক্ত দাবির কথা বলেন।
অন্যতম সদস্য আল মামুন রুবেলের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, মূল অভিযুক্ত ও গ্রুপের অ্যাডমিন নার্গিস আক্তারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।































