ঝালকাঠি শহরের টিএনটি রোড এলাকায় চুরির উদ্দেশ্যে একটি বাসায় প্রবেশ করে গৃহবধূ মলিনা রায়কে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি জুয়েল ওরফে নয়ন ডাকুয়াকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তাকে ঝালকাঠিতে এনে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ মামলার প্রধান আসামি রিতোষ একই ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া ছিলেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রথযাত্রা উপলক্ষে ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা বাইরে থাকায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রিতোষ তার সহযোগী জুয়েল (নয়ন) ডাকুয়াকে সঙ্গে নিয়ে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে ভবনের দ্বিতীয় তলায় মালিক তপন রায়ের বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দরজা ভাঙার শব্দে গৃহবধূ মলিনা রায় বিষয়টি টের পেয়ে রিতোষকে চিনে ফেলেন। ধরা পড়ার আশঙ্কায় দুই আসামি তার মুখ চেপে ধরেন, হাত-পা বেঁধে মুখে একটি বাজারের ব্যাগ গুঁজে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাটিকে সাধারণ চুরির ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করতে প্রধান আসামি রিতোষ নিজের ভাড়া করা বাসাটিও এলোমেলো করে রাখেন, যাতে সেটিও চুরির শিকার হয়েছে বলে মনে হয়। পরে দুই আসামি বাড়ির পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি রিতোষকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
ঝালকাঠি সদর থানার কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের পাঠানো রিকুইজিশনের ভিত্তিতে র্যাব-১০ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে জুয়েল ওরফে নয়ন ডাকুয়াকে গ্রেফতার করে। ইতোমধ্যে তাকে ঝালকাঠিতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মলিনা রায় হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেফতারের পর মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।































