এম. লোকমান হোসাইন ॥ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সুমন। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে ‘সময়ের বার্তা’র হাতে। ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার যখন বিশেষ নির্দেশনা জারি করছে, বরিশাল জেলায় ঘটছে তার ঠিক উল্টো চিত্র। সারাদেশে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে সরকার তেল ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ দিলেও, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন সরকারকে বিপাকে ফেলতে স্বৈরাচারের দোসর ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার আসামি আলাউদ্দিন আলোর সাথে আঁতাত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ বিভাগ
বরিশাল বান্দ রোড এলাকার তেল ব্যবসায়ী ‘মেসার্স মিশু এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক ও আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আলো ওরফে ‘তেল আলো’কে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য পদ্মা ডিপোর দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি লিখিত সুপারিশ করছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: খায়রুল আলম সুমন। এমন ঘটনায় বরিশালের সাধারণ জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সুমন আওয়ামী লীগ নেতা আলোর সাথে যোগসাজশ করে বর্তমান সরকারকে বিব্রত করতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। নির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠানকে তেল দেওয়ার জন্য পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিএমওসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। ফলে অন্য সাধারণ ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না। এই সুযোগে আলাউদ্দিন আলো একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে লিটার প্রতি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।
তথ্যমতে, ডিজেলের সরকারি নির্ধারিত দাম ৯৬ টাকা ৩৯ পয়সা এবং সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯৮ টাকা। অথচ আলো বিক্রি করছেন ১০১ টাকা দরে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩ টাকা বেশি। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় প্রতিদিন এভাবে গড়ে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ লিটার তেল অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন এই সিন্ডিকেট। মাদারীপুরের ইউসুফ ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানায়, বরিশাল পদ্মা অয়েল কোম্পানি থেকে তেল আনতে গেলে সংকট
দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে লিটার প্রতি ৩ টাকা অতিরিক্ত রাখা হচ্ছে। আলো বর্তমানে যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে একক সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, ভোলা জেলার চরফ্যাশন মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিলার, যা আলাউদ্দিন আলো পরিচালনা করেন। গত সপ্তাহে নির্ধারিত স্থানে তেল বিক্রি না করে অতিরিক্ত মুনাফায় বাউফল কালাইয়া নামক এলাকায় বিক্রি করার অপরাধে কোম্পানিটির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়।
আলোর আরেকটি প্রতিষ্ঠান বাকেরগঞ্জের ‘মেসার্স মিশু ফিলিং স্টেশন’ থেকেও তেল নিয়ে অন্যত্র চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আলাউদ্দিন আলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। জুলাই-আগস্টের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন জেনে-শুনে তাকেই তেল সরবরাহের সুপারিশ করছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সুমন ‘সময়ের বার্তা’কে জানান, মিশু এন্টারপ্রাইজের মালিক আওয়ামী লীগের দোসর কি না তা তার জানা নেই। আলো বর্তমানে জেলা প্রশাসনের সকল তেল সরবরাহ করেন, তাই তার কাছে যে সুপারিশ চাইতে আসে তাকেই তিনি দেন। তবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি বলতে পারেননি। জ্বালানি সংকটের সময় কেন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত তেল দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছেÑএমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
উক্ত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
আমাদের সাথে ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন এবং আমাদের সাথে ফেইজবুক পেইজে যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।






























