খেলাঘর বরিশাল জেলা কমিটির দুই দিনব্যাপী জেলা সম্মেলন ও শিশু সমাবেশ শনিবার রাতের শিশু আনন্দ মেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সম্মেলনে সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রতিনিধি সভা এবং গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা সম্মেলনের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত প্রতিনিধিদের নির্বাচনীয় কমি (সাবজেক্ট কমিটি) প্রস্তাবিত খসড়া কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
নতুন কমিটিতে পঙ্কজ রায় চৌধুরীকে সভাপতি এবং আখতারুল কবিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী, ৯ সদস্যের সম্পাদক পরিষদ এবং ২৮ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সমাপনী অধিবেশনের আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। সুন্দর, সুখী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিশুদের মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে, কারণ আজকের শিশুই আগামীর বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বরিশালের ঐতিহ্য রয়েছে। তবে বর্তমানে এ অঞ্চলে সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদ ও ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইউজিসি অনুমোদন পেলে তা দ্রুতই চালু করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মনোরমা বসু মাসিমা গুণীজন (মরণোত্তর) পদকে সম্মানিত হন খেলাঘর আসরের সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমরেড নজমুল হোসেন আকাশ এবং মুক্ত বিহঙ্গন আসরের কর্মী মো. মজিবর রহমান।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় পৃথক অনুষ্ঠানে বরিশালের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও মানবাধিকার সংগঠক সৈয়দ হাবিব রহমানকে শেরে-ই-বাংলা পদক (মরণোত্তর) এবং শিক্ষানুরাগী শ্রী রাখাল চন্দ্র দে-কে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার পদকে ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাঘর আসর কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক কাজী মোজ্জামেল হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান শিল্পী তামান্না রহমান।
জেলা সম্মেলন ও শিশু সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন পঙ্কজ রায় চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জীবন কৃষ্ণ দে, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির, বরিশাল জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শাহ শাজেদা, সাধারণ সম্পাদক পুষ্প রানী চক্রবর্তী, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তৌছিক আহমেদ রাহাত, গুণীজন পদপ্রাপ্ত কমরেড নজমুল হোসেন আকাশের স্ত্রী নিলুফার বেগম, মো. মজিবর রহমানের বাবা শাহে আলম মিয়া এবং ছুটি গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার তৌহিদুল ইসলাম অনিক বক্তব্য রাখেন।






























