সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বরিশাল সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য। এর ফলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরীক্ষার খাতা ও মূল্যায়নের ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ফলে অসহায় অভিভাবক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখন এই কোচিং সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলাভিত্তিক অভিন্ন প্রশ্নের পরিবর্তে প্রতিটি স্কুল নিজেদের উদ্যোগে প্রশ্ন তৈরি করে পরীক্ষা নিচ্ছে। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করছেন। নিজস্ব তৈরিকৃত মানহীন প্রশ্ন ও মূল্যায়নে কম নম্বর দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ উঠেছে, সদর উপজেলার বেশ কয়েকজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই কোচিং ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ভাটিখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: তারিকুল ইসলাম পলিন্স, আখতারুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ডালিয়া, শামিমা আক্তার শান্তনা ও লাকি, আছমত মাস্টার বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সালমা, ১৯১ নং কিশোর মজলিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস আলী খান, সহকারী শিক্ষক জাহিদুল হক মামুন ও আনোয়ার হোসেন, ১০৫ নং দোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হালিমা খাতুন, এনায়েতুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিতু, নিগাল, তানিয়া ও তানজিলা। এছাড়া উলালঘুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার আরও বেশ কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা প্রত্যেকে নিজেদের বাসা বা ভাড়া করা ঘরে ১৫ থেকে ২০ জনের ব্যাচ করে শিক্ষার্থীপ্রতি ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা করে আদায় করছেন।এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রথম প্রান্তিক পরীক্ষার আগে বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘উন্নয়ন ফি’ বাবদ ৫০ থেকে ২০০ টাকা করে বেআইনিভাবে উত্তোলন করা হয়েছে।স্থানীয় দৈনিকগুলোতে এ নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করেই শিক্ষকরা এই অদৃশ্য ক্ষমতাবলে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।কোচিং বাণিজ্যের কারণে অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের চেয়ে কোচিংয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাবিদদের মতে, এই লাগামহীন কোচিং বাণিজ্য দ্রুত বন্ধ করা না গেলে কোমলমতি শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার মূল ধারা থেকে ছিটকে পড়বে।এই বিষয়ে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে জেলা শিক্ষা অফিসারের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।































